বাংলাদেশি যুগলের চুম্বনের ভিডিয়ো তোলার অভিযোগে গ্রেপ্তার মুর্শিদাবাদের যুবক ছবি: AI
Published on
:
2 min read
মক্কায় চুম্বনের অভিযোগ বাংলাদেশি যুগলের মৃত্যুদণ্ড ঘিরে সরগরম গোটা বিশ্ব। সেই ঘটনার প্রেক্ষাপটে নাম জড়াল মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের। বাংলাদেশি যুগলের চুম্বনের ভিডিয়ো রেকর্ড করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে সৌদি প্রশাসন গ্রেপ্তার করেছে বলে খবর। বর্তমানে তিনি জেলে বন্দি রয়েছেন। এমন ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁর পরিবারের।
পুলিশ সূত্রে খবর, মুর্শিদাবাদের বলরামপুরে বাড়ি সাহাবুদ্দিন শেখের। কাজের সূত্রে আট বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। তার পর থেকে সেখানেই আছেন। পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করে দিন কাটান। জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন মক্কার মসজিদে সাফাইয়ের কাজ করছিলেন সাহাবুদ্দিন। তাঁর চোখের সামনেই ঘনিষ্ঠ হন ওই বাংলাদেশি যুবক। অভিযোগ, সেই সময়ে তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন পাকিস্তানের এক ব্যক্তি। তার পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করে দেন তিনি।
মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিয়োটি। নড়েচড়ে বসে সৌদি প্রশাসন। সব দায় গিয়ে পড়ে সাহাবুদ্দিনের ঘাড়ে। ভিডিয়ো ছড়ানোর অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৩ থেকে তিনি সৌদির জেলে বন্দি রয়েছেন বলে দাবি সাহাবুদ্দিনের পরিবারের। তাঁদের বক্তব্য, নিছক মজার ছলেই ভিডিয়োটি শেয়ার করা হয়েছিল। কিন্তু তার পরিণতি যে এমন গুরুতর হতে পারে তা বুঝতে পারেননি সাহাবুদ্দিন।
ছেলের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে ভেঙে পড়েছেন সাহাবুদ্দিনের মা কোহিনুর বিবি। তাঁর কথায়, ‘একটা ভিডিয়োই পোস্ট করেছিল, কোনও বড় অপরাধ করেনি। কিন্তু তার জন্যই জেল খাটতে হচ্ছে।’ বাংলাদেশি যুগলের মৃত্যুদণ্ডের খবর পাওয়ার পর থেকেই বুক কাঁপছে তাঁর। কোনও রকমে বললেন, ‘জানি না আমার ছেলের কপালে কী আছে?’ ইতিমধ্যেই বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তাঁরা। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও উত্তর মেলেনি বলেই অভিযোগ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আখতারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে সৌদি প্রশাসন। মক্কায় তাঁদের চুম্বনের একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তার পরেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, ‘অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন’-এর অভিযোগেই তাঁদের এই সাজা দেওয়া হয়েছে।
