চট্টগ্রাম, বগুড়া, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট শহরে রেকর্ড অনুযায়ী কতটি পুকুর রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী তিন মাসের মধ্যে হলফনামা আকারে আদালতে এ তালিকা দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব শহরে পুকুরের অবৈধ দখল ও ভরাট বন্ধে মনিটরিং কমিটি গঠন এবং চার সপ্তাহের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
জলাধার সংরক্ষণ আইন ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের বিধান অনুযায়ী পুকুর দখল ও ভরাট বন্ধে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) গত রোববার রিট আবেদনটি করে।
মনজিল মোরসেদ জানান, আদালত এ বিষয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছেন। রুলে চট্টগ্রাম, বগুড়া, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট শহরের রেকর্ডভুক্ত পুকুর সংরক্ষণে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং এসব পুকুর কার্যকরভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া জলাধার সংরক্ষণ আইনের ৬ ধারার বিধান বিবেচনায় নিয়ে পুকুরের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন অনুসরণ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে অবৈধভাবে পুকুর দখল ও ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত।
আদালতের আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে পাঁচ শহরের সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) ১৫ দিনের মধ্যে সাত সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি রাখতে বলা হয়েছে।
রেকর্ডভুক্ত পুকুরগুলো যাতে নতুন করে কেউ দখল বা ভরাট করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এই কমিটি। পাশাপাশি পুকুর সংরক্ষণে নেওয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি জানিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
