অস্তিত্বহীন ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে কাঁচামাল সরবরাহকারী দেখিয়ে ব্যাংক থেকে প্রায় ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপ-সহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন বাদী হয়ে এই মামলা করেন। দুদকের জনসংযোগ দপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আসামিরা হলেন- সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও অ্যারামিট সিমেন্টের এমডি রুকমীলা জামান, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম, ইসলামী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মহিউদ্দীন ও মোহাম্মদ আখতার হোসেন, ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জ ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. আব্দুল কাদির ও মো. শহিদুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আব্দুল হক, এফভিপি ও ম্যানেজার অপারেশন মোহাম্মদ
নিজাম উদ্দীন, এসভিপি আবুল কালাম আজাদ ও মোহাম্মদ মহসীন আলী, ব্যাংকটির এসপিও রিদুয়ানুল হক এবং অ্যারামিট সিমেন্টের এজিএম (হিসাব) মারুফ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অ্যারামিট সিমেন্ট লিমিটেডের নামে ভুয়া ও জাল দলিলপত্র তৈরি করেন। সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন অ্যারামিট গ্রুপের কর্মচারী এবং এজিএম (হিসাব) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী হিসেবে সাজানো হয়। এ ছাড়া ‘ক্লাসিক ট্রেডিং’ নামের একটি অস্তিত্বহীন ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে কাঁচামাল সরবরাহকারী হিসেবে দেখানো হয়। বাস্তবে কোনো ধরনের কাঁচামাল সরবরাহ না করেই ভুয়া বিল ও জাল ইনভয়েস তৈরি করে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। পরে ইসলামী ব্যাংক, জুবলী রোড শাখা, চট্টগ্রাম থেকে ২৭টি মুরাবাহা ডিল (ঋণ) বাবদ মোট ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮১৯ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাইফুজ্জামান দুর্নীতি ইস্যুতে অনুসন্ধানের শুরুতে দুদক, সিআইডি ও এনবিআরের সমন্বয়ে ৭ সদস্যের টাস্কফোর্স টিম কাজ করেছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের টিম অনুসন্ধান ও তদন্তের কাজ পরিচালনা করছে। তদন্ত টিম ইতোমধ্যে ৩০টির বেশি মামলা দায়ের করেছে বলে জানা গেছে।
অ্যাডমিনের সঞ্জয় ও পররাষ্ট্র ক্যাডারের মুসার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
দুর্নীতির মামলায় বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ৩৮তম ব্যাচে অ্যাডমিন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত সঞ্জয় দাস ও পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত আবু সালেহ মো. মুসার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনের করা পৃথক দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম। আবেদনে বলা হয়, আসামিরা সরকারি কর্মচারী হওয়ার অভিপ্রায়ে জ্ঞাতসারে অসৎ উদ্দেশ্যে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার লক্ষ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে জাল সনদ তৈরি করেন। ওই জাল সনদকে প্রকৃত ও বৈধ দলিল হিসেবে ব্যবহার করে নিজেকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে প্রতীয়মান করার অপচেষ্টা করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে বিভ্রান্ত করে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে প্ররোচিত করেন। ফলে সঞ্জয় দাস ৩৮তম বিসিএস-এ প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন এবং আবু সালেহ মো. মুসা পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত। পরে চাকরিতে যোগদান করে বেতন-ভাতাদিসহ উত্তোলন করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত চলছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, আসামিরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এজন্য তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।
