স্টাফ রিপোর্টার: মনিরুল ইসলাম নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগে গণমাধ্যমকর্মী ইবাদ-এর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম খান চুন্নু ও এলাকাবাসী। সোমবার দুপুরে আটপাড়া উপজেলা পরিষদের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে জমি সংক্রান্ত বিরোধের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং আইনানুগ সমাধানের দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অভিযোগ, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিষয়টির স্থায়ী সমাধান হয়নি। এ কারণে তাঁরা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ। কর্মসূচিতে বক্তব্য দিয়ে মাজহারুল ইসলাম খান চুন্নু অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় ব্যবহার করে তাঁর জমি জবরদখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসীর কয়েকজনও জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি চান। তাঁদের বক্তব্য, জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো পক্ষ যেন প্রভাব খাটিয়ে অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তাঁরা। তবে জমি জবরদখলের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত গণমাধ্যমকর্মী ইবাদ-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা জরুরি। মানববন্ধনে রাজনৈতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন আটপাড়া উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আমীর খসরু স্বপন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম সোহেল, মাজহারুল ইসলাম খান চুন্নু, মো. খায়রুল ইসলাম, জেলা জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মফিজুর রহমান, বিএনপি নেতা মানিক মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা। বক্তারা জমি-সংক্রান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, এ ধরনের বিরোধের নিষ্পত্তি হতে হবে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায়। কোনো পক্ষ যেন ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তাঁরা। একাধিকবার সালিশ, তবুও মীমাংসা হয়নি। জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে আটপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউর রহমানের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তাঁর অবগতিতে রয়েছে। বিরোধটি মীমাংসার জন্য একাধিকবার সালিশ হয়েছে, তবে তাতেও সমাধান হয়নি। বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান। ইউএনও আরও বলেন, বিরোধকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের সংঘাত বা সহিংসতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান তিনি। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে এলজিইডির সড়ক নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন জমি-সংক্রান্ত বিরোধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় সড়ক নির্মাণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রশ্ন, জমিটি যদি ব্যক্তিমালিকানাধীন হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কীভাবে সড়ক নির্মাণ করেছে? সড়ক নির্মাণের আগে জমি অধিগ্রহণ, মালিকের সম্মতি, জমি হস্তান্তর কিংবা প্রয়োজনীয় আইনি অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এ বিষয়ে প্রকল্পের নথিপত্র, জমির মালিকানাসংক্রান্ত কাগজ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তবে সড়কটি ঠিক কোন জমির ওপর নির্মিত হয়েছে এবং নির্মাণকাজে বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। নথিপত্র যাচাই করে সমাধানের আহ্বান স্থানীয়দের দাবি, জমির দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর, দখলসংক্রান্ত নথি এবং সড়ক নির্মাণের প্রকল্পের কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট করা হোক। একই সঙ্গে আদালতে বিচারাধীন বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ এবং সরকারি অবকাঠামো নির্মাণের প্রশ্ন—দুটি বিষয়ই যথাযথ নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং আইনের আওতায় সমস্যার সমাধান হলে স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজমান অসন্তোষ কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে অভিযুক্ত গণমাধ্যমকর্মী ইবাদ, এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আদালতে বিচারাধীন মামলার নথি থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরবর্তী প্রতিবেদনে নতুন তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।

