আর ক’দিন পরেই দীপাবলি। পরপর কালীপুজো, ভাইফোঁটা। রসনাবিলাসের পাতে সাজানো থাকবে কাজুর বরফি, কিংবা হরেক রকমের সন্দেশ। আর সেই মিষ্টির গায়ে রুপোলি তবক বা রাংতা চকচক না করলে যেন সেই মিষ্টি জাতে ওঠে না। কিন্তু এই রূপোলি আবেশের আড়ালে লুকিয়ে নেই তো মারাত্মক কোনও বিপদ?
উৎসবের মরশুমে মিষ্টির দোকানগুলিতে উপচে পড়া ভিড়ের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কারচুপি শুরু করেন। মিষ্টির সৌন্দর্য বাড়াতে যে রুপোলি তবক ব্যবহার করা হয়, তা সবসময় আসল সিলভার পেপার হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই রূপোর বদলে তাতে মেশানো থাকে অ্যালুমিনিয়াম, নিকেল, লেড বা ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর ধাতু। চিকিৎসকদের মতে, এই ভারী ধাতুগুলি শরীরে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে জমা হতে থাকে। এর জেরে ভবিষ্যতে ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই ভাইফোঁটায় মিষ্টি কেনার আগে কিছু কৌশল জেনে রাখা জরুরি। এই রুপোলি রাংতা আদৌ আসল নাকি নকল তা যাচাই করতে এই কাজগুলি অবশ্যই করুন।
সিলভার পেপার কি গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে?
মিষ্টির গায়ে লাগানো তবক আসল না নকল, তা বুঝতে আঙুলের সাহায্য নিতে পারেন। মিষ্টির উপর লাগানো সিলভার পেপারে হালকা করে আঙুল বুলিয়ে দেখুন। যদি সেটি খাঁটি রুপো হয়, তবে তা গুঁড়ো হয়ে আঙুলে আটকে যাবে। অন্যদিকে, যদি সেটি অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হয়, তবে তা ভাঙবে না এবং হাতেও লাগবে না।
আগুনে পুড়িয়ে পরীক্ষা করুন
তবক আসল কি না পরীক্ষা করার আরও একটি সহজ উপায় হল আগুন পরীক্ষা। মিষ্টি থেকে সামান্য রাংতা বা তবক তুলে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেখতে পারেন। যদি সেটি আসল রুপো হয়, তবে তাপের সংস্পর্শে কুঁচকে গিয়ে ছোট্ট বলের রূপ নেবে। কিন্তু যদি অ্যালুমিনিয়াম বা অন্য কোনও ভেজাল ধাতু থাকে, তবে সেই রাংতা পুড়ে কালো বা বাদামি রঙের ছাই হয়ে যাবে।
চকচকে ভাব ও রঙে নজর দিন
নকল তবকের চেহারাতেই তার কৃত্রিমতা ধরা পড়ে। জাল রুপোর পেপার সাধারণত অতিরিক্ত সাদা ও তীব্র চকচকে হয়। এই কৃত্রিম উজ্জ্বলতাই বলে দেয় তাতে ভেজাল রয়েছে। আসল রুপোর তবক কখনওই অত বেশি চকচকে বা ধবধবে সাদা হয় না।
FSSAI ও প্যাকেজিং দেখে কিনুন
খোলা মিষ্টির বদলে প্যাকেটজাত মিষ্টি কেনার সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। মোড়কের গায়ে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা FSSAI-এর লাইসেন্স নম্বর, প্রস্তুতকারকের নাম, প্যাকিংয়ের তারিখ এবং মেয়াদ শেষের তারিখ ভালোভাবে দেখে নিন। খাদ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলা হয়, এমন কোনও নামী ও বিশ্বস্ত দোকান থেকেই মিষ্টি কেনা বুদ্ধিমানের কাজ। উৎসবের আনন্দ মাটি না করে একটু সচেতনতাই সুরক্ষিত রাখতে পারে আপনার ও আপনার পরিবারের স্বাস্থ্য।
