গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে আব্দুস সামাদ (৬০) নামের এক প্রবীণ ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁরই মাদকাসক্ত ছেলে আনোয়ার হোসেনের (৩৫) বিরুদ্ধে। সোমবার (১৫ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের সাইটালিয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ছেলে আনোয়ার হোসেন পালিয়ে বেড়াতছেন।
নিহত আব্দুস সামাদ সাইটালিয়া গ্রামের মৃত গিয়াসউদ্দিনের সন্তান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আনোয়ার দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই মাদকের টাকার জন্য বাড়িতে অশান্তি সৃষ্টি করতেন।
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে নিহতের ভাই কামরুল ইসলাম জানান, সোমবার ভোরের আগের রাতে চরম নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িতে ফেরেন আনোয়ার। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অকারণে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি তাঁর বাবা আব্দুস সামাদের কাছে জোরপূর্বক মাদক সেবনের জন্য টাকা দাবি করেন। পিতা আব্দুস সামাদ সেই অনৈতিক আবদারে সাফ অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আনোয়ার। মুহূর্তেই হিংস্র হয়ে তিনি তাঁর বৃদ্ধ বাবার মাথা ও বুকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও আঘাত করেন। অতিরিক্ত আঘাত এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষতের কারণে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে মারা যান আব্দুস সামাদ।
এদিকে জঘন্য এই হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতক আনোয়ার দ্রুত বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। সকালে স্থানীয় লোকজন বৃদ্ধ আব্দুস সামাদের নিথর দেহ দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় পলাতক অভিযুক্ত আনোয়ারকে আইনের আওতায় আনতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলার আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। দ্রুত এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও শোকাহত স্বজনেরা।
