সারাদিনের কাজ শেষে রাতের খাবার খেয়ে খোলা আকাশের নীচে ঘুমোতে গিয়েছিলেন একদল শ্রমিক। সেই সময়ে চুপিসাড়ে হানা দিল মৃত্যুদূত। শ্রমিকদের দিকে এগিয়ে এল একটি চিতাবাঘ! ঠিক তখনই চোখের পলকে এমন কাণ্ড ঘটালেন এক যুবক, যার জেরে প্রাণ বাঁচল ওই শ্রমিকদের। মহারাষ্ট্রের গোন্দিয়া জেলায় নওয়েগাও বাঁধ জাতীয় উদ্যানের কাছে এই ঘটনাটি ঘটে। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। অন্ধকারে ঘুরে বেড়ানো চিতাবাঘের হাত থেকে শ্রমিকদের বেঁচে যাওয়ার রোমহর্ষক ভিডিয়োটি ভাইরালও হয়েছে। অবশ্য সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় বন্দি ওই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, শ্রমিকেরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। আর, সেই সুযোগেই একটি চিতাবাঘ তাঁদের দিকে এগিয়ে আসছে! চিতাবাঘটি হঠাৎই ঘুমন্ত শ্রমিকদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার উপক্রম করে। ঠিক তখনই বিষয়টি নজরে আসে পাশ দিয়ে যাওয়া এক গাড়িচালকের। বার বার হর্ন বাজিয়ে চিতাবাঘটিকে চমকে দেন ওই যুবক। সঙ্গে সঙ্গে ভয় পেয়ে পালিয়ে যায় প্রাণীটি। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
জানা গিয়েছে, ওই গাড়িচালকের নাম মণীশ নেভারে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, বন্ধুদের সঙ্গে গাড়িতে ঘোরার সময় চিতাবাঘটিকে ঘুরে বেড়াতে দেখেন। গোন্দিয়া জেলায় এখন ধান কাটার ও মাড়াইয়ের মরসুম চলছে। ফলে, কৃষির কাজে সহায়তার জন্য অনেক পরিযায়ী শ্রমিক এসেছেন। তিনটি ধান মাড়াইয়ের মেশিন নিয়ে পঞ্জাব থেকেও শ্রমিকদের একটি দল এসেছে। নওয়েগাও বাঁধ জাতীয় উদ্যান এলাকায় বন দফতরের একটি কলোনির কাছে থাকছিলেন ওই শ্রমিকেরা। দিনের শেষে খোলা আকাশের নীচে ঘুমোচ্ছিলেন। এমন সময় চিতাবাঘটি তাঁদের দিকে এগিয়ে যায়। বিপদ আঁচ করেই গাড়ি নিয়ে এগোন নেভারে। বার বার হর্ন বাজান তিনি। গাড়ি নিয়ে প্রাণীটির পিছুও নেন। নেভারের গাড়ির হেডলাইটের আলোয় চিতাবাঘটির গায়ের ছোপ ছোপ দাগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ঘটনাটির ভিডিয়ো স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘জয় মহারাষ্ট্র নিউজ়’-এর এক্স হ্যান্ডল থেকে শেয়ার করা হয়েছে। ঘটনাটি বনাঞ্চলের কাছাকাছি খোলা জায়গায় থাকা, বিশেষ করে রাতের বেলায় সেখানকার শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বন দফতরের কর্মীরা বনাঞ্চলের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষজনকে অন্ধকার নেমে আসার পর বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।
