প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ · ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৯ অপরাহ্ন
হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের মৌসুম ঘনিয়ে এলেও সুনামগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পওর বিভাগ-১-এ নেই কোনো নির্বাহী প্রকৌশলী। গত আগস্টে নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বদলি হওয়ার পর এই পদে দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে তাদের একজন যোগদানের পর ঢাকায় বদলি হন, অন্যজন পদায়নের আদেশ বাতিল করিয়ে চলে যান অন্য জেলায়। এতে হাওরের বাঁধের প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করার আগে প্রকল্প গ্রহণ, প্রাক্কলন তৈরি, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন ও অনুমোদনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হয়। এসব কার্যক্রমের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর উপস্থিতি জরুরি। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী না থাকায় প্রস্তুতিমূলক কাজে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাউবোর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন সুনামগঞ্জে দায়িত্ব পালনের পর গত আগস্টে বদলি হন মামুন হাওলাদার। তার জায়গায় আহসান হাবিবকে পদায়ন করা হয়। কিন্তু আদেশ পাওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর যোগদান করলেও তিনি কার্যত কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেননি বলে সূত্রের দাবি। কাগজে-কলমে প্রায় ১০ দিন দায়িত্বে থাকার তথ্য থাকলেও তিনি দ্রুত বদলির উদ্যোগ নেন। পরে ঢাকায় তার বদলির আদেশ হয়।
এরপর মেহেদি হাসান মিশুককে ওই পদে পদায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু আদেশ জারির দুই দিনের মধ্যেই তিনি তা বাতিল করিয়ে অন্য একটি জেলায় যোগ দেন। ফলে পরপর দুজনকে পদায়ন করেও পওর বিভাগ-১-এ নির্বাহী প্রকৌশলীর শূন্যতা কাটেনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের দায়িত্ব অন্য অনেক এলাকার প্রকল্পের তুলনায় বেশি চাপের। বর্ষার আগেই বাঁধের কাজ শেষ করতে হয়। কাজের মান, বরাদ্দের ব্যবহার কিংবা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে প্রকৌশলীদের জবাবদিহি করতে হয়। স্থানীয় রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি ও কৃষক সংগঠনগুলোও প্রতিবছর বাঁধের কাজ পর্যবেক্ষণ করে। অতীতে বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের ঘটনায় পাউবোর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
পাউবোর এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দুর্গম এলাকায় কাজের ঝুঁকি, বরাদ্দের সীমাবদ্ধতা এবং নতুন প্রকল্পের অভাবের কারণে অনেক প্রকৌশলী সুনামগঞ্জে দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন। তার ভাষ্য, বদলির আদেশ পাওয়ার পর দুই নির্বাহী প্রকৌশলীই দ্রুত অন্যত্র চলে গেছেন। এখন এ পদে দায়িত্ব পালনের জন্য আরেকজনকে খোঁজা হচ্ছে।
এদিকে বাঁধের কাজের প্রস্তুতি নিয়ে একাধিক বৈঠক সামনে থাকলেও নির্বাহী প্রকৌশলী না থাকায় উদ্বিগ্ন হাওর আন্দোলনের নেতারা। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো প্রকল্পের প্রাক্কলন তৈরি ও পিআইসি অনুমোদন না হলে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করতে দেরি হতে পারে। আর কাজে বিলম্ব হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত শেষ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
সুনামগঞ্জের কৃষক আন্দোলনের নেতা সাইফুল আলম সদরুল বলেন, পওর বিভাগ-১ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। এখন হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণের আসল সময়। এই সময়ে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি জরুরি। সুনামগঞ্জে জরুরি কাজ সম্পন্ন করার জন্য দুই মাসের ব্যবধানে দুজন প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেওয়া হলেও তারা বদলি হয়ে চলে গেছেন। শুনেছি, তারা তদবির করে দ্রুত বদলি হয়েছেন। সরকারের উচিত এখানে দক্ষ প্রকৌশলী নিয়োগ দেওয়া।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, বাঁধের কাজ শুরু হবে এমন সময় প্রকৌশলীরা যদি এসেই বদলি হয়ে যান তাহলে অবশ্যই এটি চিন্তার বিষয়। আমরা চাই দ্রুত সরকার একজন সৎ মানুষকে এ পদে ফিরিয়ে আনুক।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
