চট্টগ্রামের পটিয়ায় ৭২ ঘণ্টা না যেতেই আরেক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। হত্যার অভিযোগের তার স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত গৃহবধূ ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
নিহত গৃহবধূর নাম তানিয়া কামাল নিহাত । তিনি উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের হরিনখাইন গ্রামের মো. কামালের মেয়ে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোররাত ৪ টার দিকে গৃহবধূ ও তার স্বামী নুর উদ্দিনের শয়ন কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নুর উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পটিয়া থানা পুলিশ।
নিহত গৃহবধূর মা মোর্শেদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, শশুড় বাড়ীতে দীর্ঘদিন যাবৎ তার মেয়েকে নানাভাবে যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও নিপীড়ন করে আসছিল শাশুড়ী ও ননদসহ শ্বশুড়বাড়ির লোকজন। এ নিয়ে থানা ও স্থানীয় ভাবে শালিশী একাধিক বৈঠক হয়। সম্প্রতি এ বিরোধের মিমাংসা হয়। এরপর থেকে কয়েক মাস যাবৎ তার স্বামীসহ মেয়ে বাপের বাড়িতেই বসবাস করছিল। মেয়ে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল।
রোববার স্বামীর অনুরোধে একদিনের জন্য মেয়েকে শ্বশুড় বাড়িতে পাঠান তিনি। রাত ১টার দিকে তিনি মেয়ের সাথে মোবাইলে কথা বলেন। এ সময় মেয়ে সুস্থ আছেন বলে জানান। কিন্তু রাত ৪ টার দিকে হটাৎ মেয়ের স্বামী নূর উদ্দিন ফোন করে বলেন, আপনার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমরা তাকে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে আসছি। আপনারা আসেন।
কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে মেয়েকে না পেয়ে শ্বশুড় বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান, মেয়ের মাথার পিছনে ও গলায় ক্ষত চিহ্ন।
তবে শ্বশুড়বাড়ির লোকজন জানান, রোববার নিহাত ৩ বার বিরানি খেয়েছে। তাদের ধারণা, পেটে ‘ফুড পয়জন’ হয়ে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
শ্বশুড়বাড়িতে গিয়ে নিহাতের জা যোবাইদা খানমের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোববার সে তিনবার বিরানী খেয়েছিল। পরে রাতে আমরা যার যার শয়ন কক্ষেই ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ রাত আনুমানিক ৪টার দিকে সে অসুস্থতাবোধ করলে, তাকে পটিয়া হাসপাতালে তার স্বামী ও আমার শাশুড়িসহ নিয়ে যায়। কেন মৃত্যু হয়েছে আমি জানি না।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আবুল কালাম বলেন, যতটুকু জেনেছি, রাতে মেয়েটি অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। তাকে কেউ মারেনি।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে চট্টগ্রাম মেডিকেলের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই বিস্তারিত জানা যাবে। তবে এ ঘটনায় স্বামী নূর উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ডিজে
