Published on
:
2 min read
মারা গেল কুনো জাতীয় উদ্যান থেকে উদ্ধার হওয়া গুলিবিদ্ধ চিতাশাবক। ২৫ অক্টোবর রাতে ওই শাবককে উদ্ধার করা হয়েছিল। ১৯ মাসের পুরুষ চিতাশাবকের তলপেটে একাধিক পেলেট ইনজুরি পাওয়া গিয়েছিল। বন দপ্তরের সন্দেহ ছিল, খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে।
২৫ অক্টোবর রাতে মধ্যপ্রদেশের শেওপুর ও মোরেনা জেলার সীমানায় থাকা বন থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল ওই চিতাশাবককে। জবলপুরের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু শেষ রক্ষা করা যায়নি। এই চিতাটি ভারতের মাটিতেই জন্মেছিল।
২০২২ সালে ভারতে আফ্রিকার চিতা এনে নতুন করে বসতি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছিল। প্রজেক্ট চিতা- সাফল্যের মুখও দেখেছে। কিন্তু এই ঘটনা প্রবল ধাক্কা দিল সেই কাজে। বন দপ্তরের একটি সূত্রের খবর, ২০২২ সালে প্রকল্প শুরুর পরে এটাই প্রথম চিতার উপর গুলিচালনার ঘটনা। এর ফলে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বাইরে চিতার সুরক্ষা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠে গেল।
চিতাশাবকের গায়ে গুলির আঘাত?
সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, চিতাশাবকের তলপেটে ৩-৪টি গুলির খোল পাওয়া গিয়েছে। কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই এলাকায় স্পেশাল টাইগার স্ট্রাইক ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা বিষয়টির পিছনে কারা রয়েছে, তা জানতে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের সাহায্য চেয়েছে বন দপ্তর।
উঠছে বহু প্রশ্ন:
চিতাটির গলায় রেডিও কলার পরানো ছিল। এই চিতাকে মনিটরিং টিমের ট্র্যাকিংয়েও ছিল। তার পরেও কী ভাবে চিতাশাবক গুলির আঘাত পেল? মধ্যপ্রদেশের প্রধান মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) সমিতা রাজোড়া অবশ্য চোরাশিকারের সম্ভাবনাও কথাও উড়িয়ে দেননি।
কুনো ল্যান্ডস্কেপে চোরাশিকার নতুন নয়। ২০২২ সালে চিতা পৌঁছনোর আগে ওখানকার বাফার জ়োনে এক লেপার্ডের চোরাশিকার হয়েছিল।
চলতি বছরের জুলাইয়ে উত্তরপ্রদেশে একাধিক লেপার্ডের চামড়া উদ্ধার হয়েছিল। তদন্তে জানা গিয়েছিল সেগুলি মধ্যপ্রদেশের জঙ্গল থেকে শিকার করে আনা। ওই সময়েই শেওপুর ও মোরেনা জেলা থেকে সাত চোরাশিকারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই মোরেনার বেশ কিছু এলাকায় সহজেই দেশি বন্দুক মেলে। ফলে কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা তাড়াতাড়ি খুঁজে বের করতে চাইছেন তদন্তকারীরা। চিতা শিকারের লক্ষ্যেই এই হামলা নাকি হঠাৎ চিতার সামনে পড়ে যাওয়ায় গুলি চালানো হয়েছিল- সেটাও বোঝার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।