ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেহাল অংশে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। খানাখন্দে ভরপুর সড়কটি দেখলে যে কোনো মুহূর্তে গ্রামীণ মেঠোপথ বলে মনে হতে পারে। বিশেষ করে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার অংশটির অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। মহাসড়কের দুটি টোল প্লাজার চারপাশসহ পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। একটু বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি যান চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
নামমাত্র সংস্কার কাজ করা হলেও মাস না পেরোতেই আবারও আগের রূপ ধারণ করছে সড়কটি। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে এবং পঙ্গুত্ববরণ করছেন বহু মানুষ। প্রশ্ন উঠেছে, প্রতিদিন এসব টোল প্লাজা থেকে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হলেও জনদুর্ভোগ লাঘবে কি কেউ নেই?
নবীগঞ্জের শেরপুর অংশ থেকে শুরু করে আউশকান্দি বাজার, মিনাজপুর, জালালপুর, সৈয়দপুর, গোপলার বাজার, দেবপাড়া বাজার, ফুলতলী বাজার, পানিউমদা বাজার, বড়চর, বাহুবল ও মীরপুর এলাকা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে এক থেকে দেড় ফুট গভীর গর্তের রূপ নিয়েছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মালবোঝাই ট্রাক, লরি, দূরপাল্লার বাস, মাইক্রোবাস, কার ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করে। রাস্তার বেহাল দশার কারণে এসব যানবাহন প্রতিনিয়ত বিকল হচ্ছে এবং ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
হানিফ বাসের চালক রহিম আলী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই সড়কের এমন দশা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস চালাই। যাত্রীদের সবসময় আতঙ্কে চিৎকার করতে দেখি। আল্লাহর ভরসায় গাড়ি চালাই। ট্রাকচালক কদর আলী জানান, মালবোঝাই ট্রাক এই সড়ক দিয়ে নিতে চান না, কিন্তু পেটের দায়ে বাধ্য হন। সামান্য বৃষ্টিতেই বড় বড় গর্তে পানি জমে যাওয়ায় চালকরা বুঝতেই পারেন না কোথায় গর্ত রয়েছে।
যাত্রী আব্দুল আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভাঙা সড়ক দিয়ে অতিরিক্ত ভারী ট্রাক চলাচলের কারণেই রাস্তা আরও বেশি নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না করা হলে নবীগঞ্জ অংশটি দিয়ে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।
মহাসড়কের বড় গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে দূরপাল্লার গাড়িগুলো অনেক সময় পথচারী চলাচলের অংশ দিয়ে চলাচল করছে। এর ফলে সড়কের পাশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রাণহানির ভয় নিয়ে যাতায়াত করছে। এমনকি রাস্তার পাশের বাড়িঘরের বাসিন্দারাও রয়েছে চরম নিরাপত্তাহীনতায়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ সরকার জানান, সড়কের বর্তমান অবস্থা যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় সড়ক ও জনপথ বিভাগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সংস্কার কাজে অনিয়মের বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করা হয়।
স্থানীয় আউশকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতায় খুব দ্রুত মহাসড়কের সংস্কার কাজ শুরু করে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সড়ক, সেতু ও পরিবহনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ-বাহুবল এলাকার সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, জনস্বার্থে আমি মহাসড়কের এই করুণ চিত্র জাতীয় সংসদে তুলে ধরব। প্রয়োজনে জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ দিয়ে সড়ক, সেতু ও পরিবহনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।
