Published on
:
2 min read
সুগত বন্দ্যোপাধ্যায়
হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ— অর্থাৎ, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোকে এ বার কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজে উদ্যোগী হলো রাজ্য। সাত বছর আগে এই সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য তৈরি ডিপিআরের নির্ধারিত মূল্য বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা আবার খতিয়ে দেখে দ্রুত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে রাইটস-কে (রেল ইন্ডিয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ডইকোনমিক সার্ভিস)।
নবান্ন সূত্রের খবর, সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে কলকাতা বিমানবন্দরের দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। সাত বছর আগে রাইটস এই সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য ২,৩৬৫ কোটি টাকার ডিপিআর তৈরি করেছিল। নবান্নের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, সাত বছরে বদলেছে বাজার দর। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য ঠিক কত খরচ হতে পারে, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
একইসঙ্গে যে পথ দিয়ে এই মেট্রো বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে, সেখানে এই সাত বছরে জল ও বা বিদ্যুতের লাইন বসিয়ে নতুন করে কোনও সমস্যা তৈরি হয়েছে কি না, সেটাও দেখা দরকার। নবান্নের কর্তাদের একাংশের বক্তব্য, ইতিমধ্যে হলদিরামের কাছে একটি ফ্লাইওভার তৈরি হয়েছে। তার পাশ দিয়েই এলিভেটেড পথ ধরে গড়িয়া-এয়ারপোর্ট রুটের মেট্রো লাইন যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে এলিভেটেড পথ ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর জন্য করা সম্ভব নয়। তাই কৈখালি থেকে ভূগর্ভ দিয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো যাবে বিমানবন্দর পর্যন্ত— এমনটাই পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সুড়ঙ্গ পথ তৈরি করতে গিয়ে ভূগর্ভে নতুন করে কোনও সমস্যা তৈরি হচ্ছে কি না, সে দিকেও নজর দিতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্ডার গ্রাউন্ড নিকাশি, পানীয় জল বা বিদ্যুতের লাইন রয়েছে কি না, বৌবাজারের মতো ভূগর্ভস্থ কোনও জলের স্তর রয়েছে কি না, সেই বিষয়গুলিও ভালো করে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে রাইটস-কে। নবান্নের নির্দেশ পেয়ে সম্প্রতি রাইটস-এর আধিকারিকরা তাঁদের পেশ করা ডিপিআর পর্যালোচনা করতে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি, সিইএসসি, পূর্ত দপ্তর, সেচ দপ্তর, বিধাননগর পুরসভা, পুলিশ ও কেএমআরসিএল (ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থা) কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে পরিবহণ দপ্তরের কর্তারাওউপস্থিত ছিলেন।
সূত্রের খবর, এই ডিপিআর পাওয়া মাত্রই রাজ্য আনুষ্ঠানিক ভাবে কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের কাছে তা পেশ করবে। কারণ, এই মেট্রো প্রকল্পটি কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের আওতাধীন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার ৫০ শতাংশ করে এর অংশীদার। এই প্রকল্পের জন্য ঋণ দিয়েছিল জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪,৩১৯ কোটি টাকা। এই েসম্প্রসারণ প্রকল্পে রেল প্রথমে নারাজ থাকলেও রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার হওয়ায় কেন্দ্র এতে সম্মত হবে বলে মনে করছে নবান্ন।