শীতের আমেজ আসতে শুরু করেছে। ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সকালে স্নান থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নানা কাজে গরম জলের প্রয়োজনও বাড়বে। আর সেই চাহিদা মেটাতে অনেক বাড়িতেই নিয়মিত চালানো হবে গিজার। তাই শীত আসার আগেই গিজারের কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।
১. বিদ্যুতের তার ও প্লাগ পরীক্ষা করুন
গিজার চালানোর আগে তার, প্লাগ এবং সুইচবোর্ডের অবস্থা ভালো করে দেখে নিন। কোথাও তারের আবরণ ছিঁড়ে গিয়েছে কি না, প্লাগে পোড়া দাগ রয়েছে কি না অথবা সংযোগ ঢিলে হয়ে গিয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। কোনও অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লে গিজার চালাবেন না। ইলেকট্রিশিয়ানকে দিয়ে সমস্যা পরীক্ষা করিয়ে নিন।
২. আর্থিং ঠিক রয়েছে কি না দেখুন
ইলেকট্রিক গিজারের ক্ষেত্রে সঠিক আর্থিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি উপযুক্ত সার্কিট ব্রেকার এবং বিদ্যুৎ লিকেজ থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। আর্থিং ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ানের সাহায্য নিন। গিজার চালানোর সময় সুইচ বা কল ছুঁয়ে শিরশিরে বিদ্যুতের অনুভূতি হলে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
৩. জলের পাইপে ফুটো রয়েছে কি না পরীক্ষা করুন
গিজারের ইনলেট ও আউটলেট পাইপ এবং সংযোগস্থল ভালো করে দেখুন। কোথাও জল পড়ছে কি না, পাইপে ফাটল রয়েছে কি না অথবা সংযোগ আলগা হয়ে গিয়েছে কি না, খেয়াল রাখুন। বৈদ্যুতিক যন্ত্রের আশপাশে জল জমে থাকলে বিপদের আশঙ্কা বাড়তে পারে। তাই কোনও ফুটো বা লিকেজ নজরে এলে সমস্যা মেরামত না করা পর্যন্ত গিজার ব্যবহার করবেন না।
৪. গিজারের ভিতরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করান
দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে জলের মধ্যে থাকা খনিজ পদার্থ গিজারের ট্যাঙ্ক এবং হিটিং এলিমেন্টে জমে শক্ত আস্তরণ তৈরি করতে পারে। একে স্কেলিং বলা হয়। এর ফলে জল গরম হতে বেশি সময় লাগে এবং বিদ্যুতের খরচও বাড়তে পারে। গিজার থেকে অস্বাভাবিক শব্দ বেরোলে কিংবা আগের তুলনায় জল গরম হতে বেশি সময় লাগলে সার্ভিসিং করানো প্রয়োজন। বিশেষ করে যে সব এলাকায় জলে খনিজের পরিমাণ বেশি, সেখানে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। ট্যাঙ্ক খোলা বা হিটিং এলিমেন্ট পরিষ্কারের কাজ নিজে না করে দক্ষ টেকনিশিয়ানকে দিয়ে করান।
৫. সেফটি ভালভ ও থার্মোস্ট্যাট পরীক্ষা করান
গিজারের সেফটি ভালভ এবং থার্মোস্ট্যাট যন্ত্রটির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেফটি ভালভ অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, আর থার্মোস্ট্যাট জলের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। গিজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও ভালভ থেকে একটানা জল পড়লে কিংবা জল অস্বাভাবিক গরম হয়ে গেলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না। প্রয়োজনে টেকনিশিয়ানকে দিয়ে পরীক্ষা করান।
৬. গিজারের ট্যাঙ্কে জল রয়েছে কি না নিশ্চিত করুন
স্টোরেজ গিজারের ট্যাঙ্কে পর্যাপ্ত জল না থাকলে সেটি চালানো উচিত নয়। খালি ট্যাঙ্কে বিদ্যুৎ সংযোগ দিলে হিটিং এলিমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পরে গিজার চালু করলে প্রথমে জলের সরবরাহ ঠিক রয়েছে কি না নিশ্চিত করুন। ট্যাঙ্ক সম্পূর্ণ ভর্তি হওয়ার পরে প্রস্তুতকারকের নির্দেশ মেনে যন্ত্রটি চালু করুন।
৭. জল গরম হয়ে গেলে গিজার বন্ধ করুন
প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় গিজার চালিয়ে রাখবেন না। জল গরম হয়ে গেলে যন্ত্রটি বন্ধ করে দিন। এতে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমাতে সাহায্য মিলতে পারে। থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রাও প্রস্তুতকারকের নির্দেশ অনুযায়ী রাখুন। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় জল গরম হলে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষ করে বাড়িতে শিশু ও বয়স্ক সদস্য থাকলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
কখন দ্রুত টেকনিশিয়ান ডাকবেন?
গিজার থেকে পোড়া গন্ধ বেরোলে, বারবার সার্কিট ব্রেকার বন্ধ হয়ে গেলে, ট্যাঙ্ক বা পাইপে ফুটো দেখা দিলে কিংবা জল গরম হতে অস্বাভাবিক সময় লাগলে সমস্যাকে ছোট করে দেখবেন না। বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করে দক্ষ টেকনিশিয়ানের সাহায্য নিন।
