চাঁদপুরে জেলেদের জন্য বরাদ্দ সরকারি চাল চুরি ও বিক্রির অভিযোগে থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) চাঁদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান এ নির্দেশ দেন। চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ অক্টোবর চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় সরকারি চাল চুরি ও বিক্রির অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের জেলেদের জন্য বরাদ্দ ১১ দশমিক ২৫ টন চালের মধ্যে ৫ টন চাল চুরি করে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়। সংবাদে ইউনুস নামের এক ব্যবসায়ীকে চোরাই চালের ক্রেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) গোলাম মোস্তফা শামীমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়।
আদালতের আদেশে বলা হয়, সরকারি সিএসডি গোডাউন থেকে চাল চুরি এবং চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ ঘটনায় জব্দ করা চাল, আটক পিকআপ গাড়ি ও গাড়ির চালক গুরুত্বপূর্ণ আলামত। শুধু একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ যথেষ্ট নয়; ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
এ অবস্থায় চাঁদপুর সদর মডেল থানায় এ ঘটনায় কোনো জিডি বা নিয়মিত মামলা হয়েছে কি না এবং চাল চুরি, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।
আদালতের আদেশের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
The post জেলেদের বরাদ্দের চাল চুরি, পুলিশের কাছে তথ্য চাইলেন আদালত appeared first on সুপ্রভাত বাংলাদেশ.
