অভিযোগকারীর ভাষ্য, তাঁকে দফায় দফায় কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ
গাজীপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আইনজীবীর চেম্বারে আটকে এক ব্যক্তিকে মারধর এবং পৈতৃক সম্পত্তি ছেড়ে দিতে বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষরের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উজ্জ্বল চন্দ্র ঘোষ ওরফে লিটন (৫০) গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে তিনি দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে আরও দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে জড়িত থাকার কথা বলেছেন।
অভিযোগকারী উজ্জ্বল চন্দ্র ঘোষ শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ বাজার এলাকার বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ইব্রাহিম খলিল (৬২) দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে নানাভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। এ বিরোধের জেরে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৮ ধারায় পিটিশন মামলা নং ৩৩৫/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উজ্জ্বল চন্দ্র ঘোষ দাবি করেন, ওই মামলার প্রয়োজনে আদালতে যাওয়া-আসার পথে তাঁকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৫ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে ইব্রাহিম খলিলের আইনজীবী ও সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা মো. মাসুদ করিম উজ্জ্বল (৪০) তাঁর সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে বিরোধ সৃষ্টি করেন। পরে আরও দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির সহযোগিতায় তাঁকে টেনেহিঁচড়ে পাশের পানির ট্যাংকির পার্শ্ববর্তী টেন্যান্সি ভবনের পঞ্চম তলায় মাসুদ করিম উজ্জ্বলের আইন চেম্বারে নিয়ে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, সেখানে তাঁকে দফায় দফায় কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এ সময় বিরোধপূর্ণ জমি, যা তিনি নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবি করেছেন, তা ছেড়ে দিতে এবং এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে চাপ দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে আদালতে যাতায়াত করতে না দেওয়া এবং এলাকায় থাকতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
উজ্জ্বল চন্দ্র ঘোষ আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার বিষয়ে কোথাও বিচার-সালিশ বা মামলা করলে তাঁকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
অভিযোগকারী এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য, অভিযুক্তদের বক্তব্য কিংবা তদন্তের অগ্রগতি তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
