Published on
:
2 min read
ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত যা গতিপ্রকৃতি তাতে ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল হওয়ার কথা অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে। প্রভাব পড়তে পারে ওডিশার উপকূলেও। সরাসরি প্রভাব না পড়লেও, পরোক্ষ ভাবে বাংলার উপকূলেও ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব পড়বে বলে আবহাওয়া দপ্তর সূত্রের খবর। সেই কারণেই রাজ্যের দুই উপকূলবর্তী জেলা- পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তুঙ্গে উঠেছে তৎপরতা।
পশ্চিমবঙ্গে সাইক্লোন অর্ণবের প্রভাব:
ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে না পড়লেও, পরোক্ষ প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ পৌঁছতে পারে ৬০ কিলোমিটারে। উত্তাল থাকতে পারে সমুদ্রও। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েকটি জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বৃষ্টি চলবে। শুক্রবার ও শনিবার কয়েকটি এলাকায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
দিঘা-মন্দারমণিতে মাইকিং:
দিঘা, তাজপুর, মন্দারমণির মতো এলাকায় ২৭-৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। সোমবার, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদেরও আপাতত সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে কলকাতার আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্র (RMC)। সতর্কবার্তা অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ২৭ অক্টোবর থেকে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল বরাবর এবং সংলগ্ন সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের যেতে বারণ করা হয়েছে। মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রেও যেতে পারবেন না মৎস্যজীবীরা। যাঁরা ইতিমধ্যেই গভীর সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের ২৬ অক্টোবর, সোমবারের মধ্যে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের ল্যান্ডফল মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সাইক্লোন অর্ণবের গতিপথ:
সোমবার আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের আঞ্চলিক অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, পূর্ব-মধ্য ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড়টি। বর্তমানে সমুদ্রে ঘণ্টায় ৬৫-৭৫ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইছে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ পৌঁছচ্ছে ৮৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার মধ্যরাতের মধ্যে আরও শক্তি বাড়াতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি, বাড়বে হাওয়ার গতিবেগও। বুধবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছবে ঘূর্ণিঝড়টি। দুপুরের মধ্যে বাপতলা ও বিশাখাপত্তনমের মাঝামাঝি ইয়ানামের কাছে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।
FAQ: ঘূর্ণিঝড় অর্ণব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
১. ঘূর্ণিঝড় অর্ণব কোথায় আছড়ে পড়তে পারে?
পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে বাপতলা ও বিশাখাপত্তনমের মাঝামাঝি ইয়ানাম সংলগ্ন এলাকায় ঘূর্ণিঝড়টির ল্যান্ডফল হতে পারে।
২. ঘূর্ণিঝড় অর্ণব কি সরাসরি বাংলায় আছড়ে পড়বে?
ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি প্রভাব বাংলায় পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে এর পরোক্ষ প্রভাবে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া হতে পারে।
৩. পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলাগুলিতে বৃষ্টি হতে পারে?
পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বৃষ্টি হতে পারে।
৪. দিঘা ও মন্দারমণিতে সমুদ্রে নামা যাবে?
প্রদত্ত প্রতিবেদনে ২৭ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত দিঘা, তাজপুর ও মন্দারমণিতে সমুদ্রে নামার উপর নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। পর্যটকদের প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা উচিত।
৫. মৎস্যজীবীদের জন্য কী সতর্কতা জারি হয়েছে?
২৭ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ উপকূল, সংলগ্ন সমুদ্র এবং মধ্য ও উত্তর বঙ্গোপসাগরের নির্দিষ্ট গভীর সমুদ্র এলাকায় যেতে নিষেধ করা হয়েছে।