ফাইল ছবি
আওয়ামী লীগের নেতা ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ‘ক্যাঙারু কোর্টের রায়’ বলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সশরীরে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন আওয়ামী লীগপন্থী দুই আইনজীবী। তাঁরা হলেন হাসানুজ্জামান তুষার ও হাসান চৌধুরী। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন তাঁরা। তাঁদের মন্তব্যের কারণে আদালত অবমাননা হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে তা কতটা গুরুতর, শুনানি শেষে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে শুনানিকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। নিরাপত্তার কারণে ট্রাইব্যুনাল-২-এর সব মামলার শুনানি বাতিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলা ছাড়া অন্য আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর এ মামলার শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। তবে বিচারকদের একজন অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেদিন শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়। ওই দিনও আদালত অবমাননার অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছিলেন অভিযুক্ত দুই আইনজীবী। তাঁদের সঙ্গে আওয়ামী লীগপন্থী আরও কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত হলেও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সবাইকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ওবায়দুল কাদের, নাছিম, আরাফাতসহ আওয়ামী লীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। ওই রায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে হাসানুজ্জামান তুষার ও হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এর পরদিন, ১৬ সেপ্টেম্বর, তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, অভিযুক্ত দুজনই আইনজীবী হওয়ায় তাঁদের মন্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে আদালত সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করতে পারে। এ কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সোমবারের শুনানিতে দুই আইনজীবী নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার পাশাপাশি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে তাঁদের ক্ষমা প্রার্থনার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা এখনো জানা যায়নি। আদালত অবমাননার অভিযোগের গুরুত্ব, সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের প্রভাব এবং আইনজীবীদের ব্যাখ্যা বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন।
আদালতের মর্যাদা রক্ষা এবং বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি এড়ানোর বিষয়টি এ মামলায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এখন ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।
মাতৃভূমির খবর
-20261026070429.jpg&w=1440&q=75)
