নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজে টিম ২-০ এগিয়ে। মঙ্গলবার ওয়েলিংটনে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ। যে যুদ্ধ জিতলে, শ্রেয়স আইয়ারের ভারতের সিরিজ জয় সম্পন্ন হয়ে যাবে। কিন্তু তার পরেও ভারতীয় টিম নিশ্চিন্ত থাকতে পারছে কোথায়? বরং গৌতম গম্ভীরদের তিন-তিনটে বিষয় ভাবাচ্ছে। ঈশান কিষানের অভাব। দ্বিতীয় ম্যাচের পর এবার তৃতীয় টি-টোয়েন্টি থেকেও সোমবার যিনি সরকারি ভাবে ছিটকে গেলেন। বোলিংয়ের মান। বেসিন রিজার্ভের তীব্র হাওয়া।
কিষানের বদলে ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে খেলানো হয় পনেরো বছরের বৈভব সূর্যবংশীকে। কিন্তু তিন নম্বরে নেমে স্মরণীয় কিছু করতে পারেননি তিনি। এটা পরিষ্কার যে, বৈভবকে খেলিয়ে ফায়দা তুলতে গেলে, তাঁকে দিয়ে ওপেন করাতে হবে। তিন নম্বর তাঁর জায়গা নয়। কিন্তু মুশকিল হল, ভারতের দুই ওপেনার সঞ্জু স্যামসন এবং অভিষেক শর্মা এ মুহূর্তে যথেষ্ট ভালো খেলছেন। ওপেনিংয়ে ‘সেট’ হয়ে গিয়েছেন। এখন বৈভবকে দিয়ে ওপেন করালে, সঞ্জুকে তিন নম্বরে খেলাতে হয়। কিন্তু সেটা কি করা হবে? বৈভবকে ওপেনিংয়ে জায়গা করে দিতে, তিনে নেমে আসবেন সঞ্জু? যা করতে গেলে, কম্বিনেশন নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে না, কে বলতে পারে? সুস্পষ্ট উত্তর পাওয়ার জন্য চব্বিশ ঘণ্টা অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।
যেমন উপায় নেই, ভারতীয় বোলিং কোচ মর্নি মর্কেলের ‘দাওয়াই’-য়ে শেষ পর্যন্ত কতটা উন্নত হল ভারতীয় বোলিং? প্রথম ম্যাচে ২২৬ রান তাড়া করে জিততে হয়েছিল ভারতকে। দ্বিতীয় ম্যাচে আবার ১৮১ রান তাড়া করে জেতে ভারত। প্রাক্তন দক্ষিণ আফ্রিকা পেসারের মতে, ভারতীয় বোলিংয়ের মান অবিলম্বে বাড়ানো প্রয়োজন। “প্রথম ম্যাচে আমরা আরও ভালো বোলিং করতে পারতাম। বেশ কয়েকটা জিনিস আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়নি। কয়েকটা ডেলিভারি, কিছু সিদ্ধান্ত, সঠিক হয়নি। মাঠে কোন বোলার কী পরিকল্পনা নিয়ে এগোবে, সেটা আমরা ওদের উপরেই ছাড়ি। তারপর কোনও ভুলভ্রান্তি হলে, সেটা নিয়ে কথা বলি,” সোমবার প্রাক্ ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে এসে বলে দিয়েছেন ভারতের বোলিং কোচ। সঙ্গে মর্কেলের সংযোজন, “কী জানেন, দিন শেষে আপনি পরিকল্পনাই করতে পারেন। কিন্তু মাঠে নেমে সেই পরিকল্পনাকে সফল করতে হবে প্লেয়ারদের। প্রথম দিকে ট্র্যাভেলিং শিডিউল, জেট ল্যাগের ক্লান্তির কথা ভেবে কিছুটা হলেও বোলারদের ছাড় দিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু এখন থেকে আর কোনও অজুহাত শোনা হবে না। যে কোনও উপায়ে, আমাদের বোলিংয়ের মান উন্নত করতে হবে।”
সর্বোপরি, হাওয়া। ওয়েলিংটনের ঝোড়ো হাওয়া। মাঠের তিন দিক খোলা থাকায়, তীব্র হাওয়া দিতে থাকে নিউজিল্যান্ডের এই মাঠে। যার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ তো নয়ই, বরং বেশ কঠিন কাজ। “আমি আজ সকালে হোটেল রুমে ছিলাম। এত হাওয়া দিচ্ছিল যে, পুরো হোটেলটা দুলছিল। তাই ওয়েলিংটনের হাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে না আমাদের পক্ষে,” বলছিলেন মর্কেল। “কিন্তু আবারও বলছি, এ সমস্তকে অজুহাত করলে চলবে না। আমাদের চ্যালেঞ্জটা নিতে হবে। নিয়ে, জিততে হবে। মানছি, ঝোড়ো হাওয়া দিতে থাকলে, অনেকগুলো বিষয় নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। স্টান্স নিতে অসুবিধে হতে পারে। ক্রিজে পজিশনিং নিয়েও সমস্যায় পড়তে হতে পারে ব্যাটারদের। কিন্তু টিম ওয়েলিংটনে একটা ট্রেনিং সেশন পেয়েছে। একটা ধারণা নিশ্চয়ই সবার মধ্যে তৈরি হয়েছে। খেলার সময় ওই সমস্ত হাওয়া ইত্যাদি মাথায় রাখলে চলবে না। বরং সেটাকে ম্যানেজ করে, পারফর্ম করতে হবে।” আবারও লেখা যাক, কাজটা মোটেও সহজ নয়। একটা উদাহরণ দিলেই বোঝা যাবে। সোমবার বেসিন রিজার্ভে ভারতের প্র্যাকটিস সেশনের সময় ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে হাওয়া দিচ্ছিল! প্লেয়ারদের টুপি উড়ে তো গিয়েছেই বারবার, সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেও অসুবিধে হচ্ছিল। অগত্যা, ঘুরেফিরে কী দাঁড়াল? সিরিজ জয়ের যুদ্ধের আগে ভারতীয় ছাউনিতে স্বস্তি কম, অস্বস্তি বেশি!
আজ টিভিতে
নিউজিল্যান্ড বনাম ভারত
তৃতীয় টি-টোয়েন্টি, ওয়েলিংটন
দুপুর ১২.৩০, সোনি স্পোর্টস
