আমার স্বামী বিয়ে করেছেন ১৮টি, ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলছেন: তাশরীফের মা
হাফেজ জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বাবা ১৭ থেকে ১৮টি বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেছেন তার মা। তিনি বলেছেন, ছেলের বিরুদ্ধে তাশরীফের বাবা যেসব অভিযোগ করছেন, সেগুলো সত্য নয়। ছেলে পরিচিতি পাওয়ায় তার বাবা তা মেনে নিতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) একটি ফেসবুক পেজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তাশরীফের মা। সাক্ষাৎকারে তাশরীফের মা বলেন, ‘তাশরীফের বাবা অনেকগুলো বিয়ে করেছেন। আমি আসার সময় ৭-৮টা বিয়ে করেছেন। আমি আসার পর জানতে পারি, তিনি ১৭-১৮টা বিয়ে করেছেন।’ তাশরীফের বাবার বিভিন্ন মন্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাশরীফের বাবার কথাগুলো সত্যি না। এটা মিথ্যা। যেহেতু তার ছেলে এতটুকু উপরে উঠছে, সে চায় না তার ছেলে উপরে থাকুক। কখনো যদি চাইতো, তাহলে তার ছেলের সঙ্গে মিলে সুন্দরভাবে চলাচল করতো। কিন্তু সে অনেক লোকের মন্তব্য শুনে শুনে চলে।’ তাশরীফের মা আরও দাবি করেন, প্রতি মাসে ছেলে তাকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিতেন। তবে এক মাস টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছেলেকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, অন্যদের বুদ্ধি ও পরামর্শে তাশরীফের বাবা এসব করছেন। এর আগে মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং মাদ্রাসা ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে তাশরীফের বক্তব্যও আলোচনায় আসে। ওই ঘটনায় এক সংবাদ সম্মেলনে তাশরীফ বলেছিলেন, ‘উনি চুমু দেন নাই, দেওয়ার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘যতটুকু অপরাধ, শাস্তি ততটুকু হতে পারে।’ একজন শিক্ষকের অপরাধের জন্য পুরো মাদ্রাসাকে দায়ী করা কিংবা সেখানে ভাঙচুরের বিরোধিতা করেন তাশরীফ। গত সোমবার রাতে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর বাবা ছেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন।

অসুস্থ বাবার খোঁজ-খবর নেন না তাশরীফ!
দেশে নানা ঘটনা নিয়ে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় থাকেন ইসলামী বক্তা হাফেজ ক্বারি জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। বিভিন্ন বিষয়ে ন্যায়-নীতি ও জ্ঞানগর্ভ কথা বললেও নিজের অসুস্থ বাবার ভরণপোষণ এবং খোঁজখবর রাখেন না বলে অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি ছেলের প্রতিশ্রুতিতে ইমামতির চাকরি ছেড়েও আর্থিক সহযোগিতা পাননি বলে দাবি করেছেন তার বাবা মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহ। সম্প্রতি জাতীয় এক গণমাধ্যমকে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে ছেলের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন হেদায়েতুল্লাহ। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিজে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও ছেলের কাছে টাকা চাইলে তা পান না। ছেলে তার কোনো খোঁজখবরও রাখেন না। অথচ বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর টাকা ব্যয় করেন। মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ‘পড়াইয়া তারে আজকে মাওলানা বানাইছি, হাফেজ বানাইছি। সে অস্বীকার যায়, আমি বলে তারে পড়াইছি না। এরপরে তার আরেকটা কথা, সে ছোট সময় তার প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেছিল। পরে মানুষের কাছে ভিক্ষা কইরা কইরা, টাকা চাইয়া চাইয়া; আমি তো অল্প টাকা পাই, ইমামতি করি, তো টাকাটা চলে না। পরে মাইনষের কাছ থেকে চাইয়া চাইয়া, অনেক কষ্ট কইরা, তারে অনেক দিন পর্যন্ত ঢাকা, ময়মনসিংহ, মির্জাপুর হাসপাতালে আমি চিকিৎসা কইরা অনেক কষ্ট কইরা তারে আল্লাহ মুক্তি করছে, ভালো হইছে।’ নিজের অসুস্থতার সময় ছেলের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ‘আমি যখন অসুস্থ ছিলাম, তারে কইছি, আমারে কিছু টাকা দে। পরে কিছু টাকা না দিয়া কয়, আমি জমি কিনমু। আমি টাকা দিতে পারতাম না, কষ্ট করে তোরে লেখাপড়া করলাম, লালনপালন করলাম, তুই টাকা দিতে পারতি না?’ পরে অন্যের সহযোগিতায় চিকিৎসা করানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরে আমি আমার এক মিডিয়ার মাধ্যমে একজন আমারে কইছে, মানুষের দ্বারস্থ হন, বেশি টাকা-পয়সা দিব। পরে মিডিয়ার মাধ্যমে দ্বারস্থ হইছি। কিছু টাকা-পয়সা দিছেও। দেওয়ার পরে আমি চিকিৎসা করছি। কিন্তু চিকিৎসা করার পরেও আমার পুরাপুরি এটা ভালো হইছে না। আমি এহনো চিকিৎসাধীন আছি, চিকিৎসা করব।’ ছেলের অবহেলার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ‘যখন তোমার কেউ ছিল না, তখন ছিলাম আমি। এখন তোমার সব হইছে, পর হইলাম আমি। সে আজকে আমার খোঁজখবর লয় না, আমারে সে দেহে না, আমারে টাকা-পয়সা দেয় না। আমি কষ্টের ভিতরে আছি।’ ছেলের বর্তমান আর্থিক অবস্থা ও সামাজিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তার অজস্র টাকা আছে, তার বন্ধুর অভাব নাই। আগে কি তার বন্ধু ছিল? আমি তারে কষ্ট করে পড়াইলাম, তারে কষ্ট করে পাললাম। সে আমারে তো কোনো দিন কিছু করে না।’ তাশরীফের পরামর্শে ইমামতির চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরও আর্থিক সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেন হেদায়েতুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘এরপরে কিছুদিন আগে আমি এই বাজার মসজিদে ইমামতি করি। এহন আইছে, আমি চেয়ারম্যান দাঁড়ামু, তুমি দোয়া করে আমারে মাফ করে দিও। আমি কইলাম, ঠিক আছে, ছেলে হিসেবে মাফ চাইছোস, মাফ করে দিলাম। মাফ করে দেওয়ার পরে কয়, ঠিক আছে, তাইলে তুমি চাকরি ছাইড়া দাও, তোমারে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দিমু। আমি কইলাম, ঠিক আছে, চাকরি ছেড়ে দিলাম। তার কথা অনুযায়ী চাকরি ছাইড়া দিছি। পরে আমারে এক টাকাও দেয় না।’ ছেলের ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করেও সমাধান পাননি বলে দাবি করেন তিনি। হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ‘তার লগে পিএস আছে, ওবায়দুল্লাহ। তারে কই, কিরে, হে তো টাকা দেয় না? ফোন দিলে ফোন ধরে না। ১০০ ফোন দেই, ফোন যত দেই, ফোন রিসিভ করে না।’ ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার কষ্টের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বাবা, সে সন্তান, তারে আমি ফোন দেই, রিসিভ করে না। পরে ওবায়দুল্লাহরে দিছি। ওবায়দুল্লাহ কয়, মাসে কিছু সমস্যা, পরে দিব। পরে ফোন দিতে দিতে বিরক্তি। ফোন ধরে না। টাকা-পয়সা লাগব না, আল্লাহ চালাইবো।’ কোরবানির ঈদে ছেলের আচরণ নিয়েও অভিযোগ করেন হেদায়েতুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘পরে হে কুরবানি আইছে, কইছে, আমি একটা গরু কুরবানি দিমু। তাইলে কি করাম? তাইলে এলাকায় কুরবানি দে, এলাকার মাইনষে কিছু গোশত দে, আমিও কিছু নিমু।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরে কয়, আমার তো বিভিন্ন বন্ধুবান্ধব আছে। এরা অনেকেই কুরবানি দিতে পারে না। তাগরে টাকা-পয়সা দেওয়া লাগব, গোশত দেওয়া লাগব। আমি কইলাম, সমস্যা নাই, তোর বন্ধুবান্ধব কুরবানি দিতে পারে না, তাগরে গোশত দে। আমারে এক টুকরা গোশত দিল না।’ তবে বাবার এসব অভিযোগের বিষয়ে হাফেজ ক্বারি জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যে বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক বিভিন্ন সময়ে মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন হাফেজ ক্বারি জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। সম্প্রতি গাজীপুরের টঙ্গীর একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপালের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েন তিনি। টঙ্গীর ‘ক্বারীউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষককে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে তাশরীফ নিজের ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘নাবালক ছোট বাচ্চাকে চুমু দেওয়া ১০০ বার জায়েজ।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।

‘শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফ চাই’— তাহলে মানিক পশারীর দাফনে বাধা কেন?
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফন নিয়ে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জামায়াতের বিরুদ্ধে মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে দলটির রাজনৈতিক আদর্শ ও ভিন্নমতের প্রতি আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে এনসিপিকে জামায়াতের ‘প্রক্সি সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে দলটির রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেছেন তিনি। রাশেদ খাঁন বলেন, ‘জামায়াত-এনসিপির আদর্শিক নেতা শহীদ ওসমান হাদী বলে গেছেন, আমরা আমাদের শত্রুর সাথেও ইনসাফ চাই! আসলে সেই ইনসাফ কি মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়া? জামায়াতের প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সাক্ষী হওয়ার কারণে মানিক পশারীর জানাজা হতে দেয়নি জামায়াতে ইসলামী। এমনকি মোবাইলের আলোতে দুই মেয়ে ও এক বোন মিলে কবর খুঁড়ে দাফন সম্পন্ন করেছে। এই হলো জামায়াত-শিবিরের বর্বরতা। ’ তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় না গিয়েই যারা ভিন্নমতের মানুষের জানাজা- দাফনে বাধা দিচ্ছে, কখনো ক্ষমতায় গেলে তারা আরও বর্বর হবে। তাই সকলের নৈতিক দায়িত্ব জামায়াত- শিবিরের থাবা থেকে দেশকে রক্ষা করা।’ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, ‘জামায়াতের প্রক্সি সংগঠন এনসিপির ৮০% নেতাকর্মী যেহেতু জামায়াত-শিবিরের সাবেক নেতাকর্মী। সুতরাং নতুন এই প্রক্সি দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মীরা জামায়াত-শিবিরের মত বর্বর। এই দলটির জন্মই হয়েছে জামায়াত-শিবির কোনো বিপদে পড়লে উদ্ধারকারী জাহাজ হাজির হয়ে তাদের রক্ষা করার জন্য। প্রতিনিয়ত তারা সেটিই করে যাচ্ছে। বিশেষ করে আগামীতে জামায়াতের থেকে আসন ছাড় পাওয়ার জন্য এনসিপি নেতাদের মধ্যে জামায়াতি বর্বরতাকে তোষামোদি করার একধরণের প্রতিযোগিতা লক্ষ করা যাচ্ছে।’ সবশেষ তিনি বলেন, ‘নতুন বন্দোবস্তের নামে এনসিপি বর্তমানে জামায়াতি বর্বরতাকে বৈধতা দেওয়ার রাজনীতি করছে। এটাই কি তরুণদের কাছ থেকে মানুষ প্রত্যাশা করেছিলো? অবশ্য ছাগল চোর, ল্যাপটপ চোর, নারী ও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জর্জরিতদের থেকে এর থেকে আর বেশি কিছু কিভাবেই বা প্রত্যাশা করা যায়!’

‘বিরোধী দলে থাকতেই কবর দিতে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবেন’
নিজেদের নেতাদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের কথা বললেও অন্যদের বেলায় জামায়াতে ইসলামী সেই নীতি অনুসরণ করতে চায় না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। পিরোজপুরে এক মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেছেন, বিরোধী দলে থাকতেই যারা একজন মানুষকে নিজের বসতভিটায় কবর দিতে বাধা দেন, রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে পেলে তারা কী করবেন? আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি। পোস্টে তাসনিম জারা জানান, গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে পিরোজপুরে ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। তিনি সরকারি গেজেটভুক্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তবে তার দাফন ঘিরে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাধা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাসনিম জারা লেখেন, ‘আমাদের সমাজে কেউ মারা গেলে কবর খুঁড়তে কাউকে ডেকে আনতে হয় না। খবর পেয়ে পাড়ার ছেলেরা কোদাল হাতে নিজেরাই চলে আসে। কেউ বাঁশ কেটে আনে, কেউ চাটাই। মৃত মানুষের দাফনে দেরি করতে নেই, এটা শুনেই বড় হয়েছি।’ তিনি অভিযোগ করেন, মানিক পশারীর মৃত্যুর পর স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা মিছিল করেন এবং মাইক ও ফেসবুকে ঘোষণা দেন, তাকে পিরোজপুরে দাফন করতে দেওয়া হবে না। এতে মরদেহ নিয়ে দিনভর উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করতে হয় পরিবারকে। মৃতের মেয়ে সীমু আক্তারের বক্তব্য তুলে ধরে তাসনিম জারা জানান, বাড়িতে প্রথমে একটি কবর খোঁড়া হলেও কয়েকজন এসে তা ভরাট করে দেন। পরে সীমু আক্তার তার ফুফুদের নিয়ে নতুন করে কবর খোঁড়েন। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় অন্য কেউ কবর খুঁড়তে এগিয়ে আসেননি। তিনি লেখেন, ‘যে কোদাল পাড়ার ছেলেদের হাতে থাকার কথা, সেদিন তা ছিল মৃত ব্যক্তির মেয়ে আর বোনেদের হাতে।’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত মধ্যরাতের পর পুলিশ পাহারায় পরিবারের সদস্যদের খোঁড়া কবরে মানিক পশারীকে দাফন করা হয়। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়া পরিবারের বাইরের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। পোস্টে তাসনিম জারা আরও উল্লেখ করেন, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মানিক পশারীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে তাকে গার্ড অব অনার ও পিরোজপুরে দাফন করতে না দেওয়ার কথা বলেছিলেন। অথচ দাফনের পর একই নেতা দাবি করেন, জামায়াতের নেতারা লাশের রাজনীতি করেন না। মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আদালত রয়েছে উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, কোনো ব্যক্তির মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে আপত্তি থাকতেই পারে। কিন্তু সেই বিরোধের নিষ্পত্তি দাফন আটকে দিয়ে কিংবা মাইকে ঘোষণা দিয়ে করা যায় না। তিনি লেখেন, ‘মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না, সেই প্রশ্ন আপনি চাইলে তুলতে পারেন। তোলার জায়গাও আছে। যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান আছে, আদালত আছে।’ মৃত ব্যক্তির প্রতি সামাজিক ও ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণত জানাজার আগে মৃতের পরিবারের সদস্যরা তার ভুলত্রুটির জন্য সবার কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু পিরোজপুরের ঘটনায় সেই সুযোগও পায়নি মানিক পশারীর পরিবার। এমনকি নিজের গ্রামে তার জানাজাও অনুষ্ঠিত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। জামায়াতের ভূমিকার সমালোচনা করে তাসনিম জারা লেখেন, ‘পিরোজপুরের মাটিতে দাফন করতে দেওয়া হবে না’ এই কথাটা ওনারা এমনভাবে বলেন, যেন এই মাটির দলিল ওনাদের নামে লেখা। যেন একজন মানুষ নিজের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে শুয়ে থাকবেন কি না, সেই অনুমতিও তাদের কাছ থেকে নিতে হবে।’ একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় দল হিসেবে জামায়াত বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। অথচ এখন সেই দলের নেতাকর্মীরাই কে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, কে রাষ্ট্রীয় সম্মান পাবেন কিংবা কার কবর কোথায় হবে, তা নির্ধারণ করতে চাইছেন। তাসনিম জারা আরও বলেন, একসময় জামায়াতের নেতাকর্মীদের উদ্দেশেও দেশ ছাড়ার স্লোগান দেওয়া হতো। এমন বক্তব্য কতটা অন্যায়, তা তাদের বোঝার কথা। কিন্তু বিরোধী দলে থাকা অবস্থাতেই তারা সেই অভিজ্ঞতা ভুলে গেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। পোস্টের শেষাংশে জামায়াতের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাসনিম জারা লেখেন, ‘নিজেদের নেতাদের ক্ষেত্রে জামায়াত ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, ডিউ প্রোসেস আর মানবিক মর্যাদার কথা বলেন। কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে সেটা করতে নারাজ।’ তিনি আরও লেখেন, ‘ভোটের আগে আর বক্তৃতায় ইনসাফের কথা বলেন। কিন্তু একজন মৃত মানুষের সঙ্গে ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। বিরোধীদলে থাকতেই নিজের বসতভিটায় কবর দিতে বাধা দিচ্ছেন, রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা ওনাদের হাতে গেলে কী করবেন?’

ডাকাতের কবলে পড়ে ফেসবুক লাইভে মাদানি, যা ঘটেছিল সোনারগাঁয়ে
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে ডাকাতের কবলে পড়েছেন প্রখ্যাত ইসলামী বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানি। রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার পাকুন্ডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে চালকের বিচক্ষণতায় অল্পের জন্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পান তিনি ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে ডাকাতির ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন রফিকুল ইসলাম মাদানি। সেখানে তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে ওই রাতের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান। লাইভে তিনি জানান, একটি ওয়াজ মাহফিল শেষে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। পথিমধ্যে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাকুন্ডা এলাকায় পৌঁছালে দেখতে পান, ডাকাত দল সড়কের ওপর বড় বড় পাথর ফেলে গাড়ির গতি প্রতিরোধ করছে। এ সময় ডাকাতদের হাতে ধারালো রামদা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ছিল। মাদানি জানান, তাদের গাড়িটি ডাকাত দলের থেকে খানিকটা দূরে ছিল। ডাকাতদের উপস্থিতি টের পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তার গাড়িচালক দ্রুত গাড়ি ঘুরিয়ে অন্য পথে চলে যান। ফলে তারা অক্ষত অবস্থায় রক্ষা পান। তবে তাদের সামনে থাকা অন্য একটি গাড়ির চালক ও যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা। লাইভে তাৎক্ষণিকভাবে সাহায্য ও সুরক্ষার জন্য আকুতি জানান তিনি। এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ডাকাত দলকে চিহ্নিত করা ও তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

