সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই প্রায় ৬০০ গ্রাহকের পানির মিটার চুরি হয়ে গেছে। ২১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৩ হাজার ৩০০টি বাড়িতে পানির সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে ২ হাজার ৬৫০টি বাড়িতে মিটার স্থাপন করা হলেও চুরি ও সংযোগ লাইনের ত্রুটির কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট উদ্বোধনের পরও গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ শুরু না হওয়ায় একদিকে অপেক্ষা বাড়ছে, অন্যদিকে মিটার চুরির ঘটনায় সংযোগ
পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, গত ছয় মাসে চুরির ঘটনা বেড়েছে। থানায় অভিযোগ দিয়েও তা বন্ধ করা যাচ্ছে না।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার ৬ হাজার পরিবারকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রথম পর্যায়ে ৩ হাজার ৩০০টি বাড়িতে সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৬৫০টি বাড়িতে পানির মিটার স্থাপন করা হয়েছে। তবে কিছু কারিগরি ত্রুটির কারণে বাকি সংযোগ স্থাপনের কাজ বন্ধ রয়েছে। স্থাপন করা মিটারগুলোর মধ্যে প্রায় ৬০০টি চুরি হয়ে যাওয়ায় প্রকল্পের কাজ আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
প্রকল্পের আওতায় চর ঘাটিনা এলাকায় করতোয়া নদীর তীরে একটি পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম প্ল্যান্টটি উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধনের পরও গ্রাহক পর্যায়ে পানি সরবরাহ শুরু হয়নি। ফলে মিটার স্থাপন করা হলেও কবে থেকে নিয়মিত পানি পাওয়া যাবে, তা নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন পৌরবাসী।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, চুক্তি অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে ৩ হাজার ৩০০টি বাড়িতে পানির মিটার সংযোগ দেওয়ার কথা। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৬৫০টি বাড়িতে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। মিটার চুরি ও লাইনে কিছু ত্রুটি থাকায় কাজ বন্ধ রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, পৌর এলাকার ৬ হাজার গ্রাহকের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৩ হাজার ৩০০টি বাড়িতে সংযোগ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে প্রায় আড়াই হাজার বাড়িতে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। স্থাপন করা মিটারের মধ্যে গত এক বছরে প্রায় ৬০০টি চুরি হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ছয় মাসে চুরির ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে। এতে গ্রাহকদের পানি সংযোগ দিতে সমস্যা হতে পারে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও চুরি বন্ধ হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, চুরি যাওয়া মিটারের জন্য নির্ধারিত মূল্য ঠিক করা হবে। গ্রাহক ওই অর্থ পৌরসভায় জমা দিয়ে নতুন মিটার নিতে পারবেন। পৌরসভার ঘোষগাতী, কাওয়াক ও উল্লাপাড়া এলাকায় মিটার চুরির ঘটনা বেশি ঘটেছে। পানি সরবরাহ শুরুর আগেই বিপুলসংখ্যক মিটার চুরি হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এদিকে পৌরসভার ঝিকড়া এলাকার বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম ও সাজ্জাদ হোসেনসহ কয়েকজন জানান, তাদের এলাকায় পানি সরবরাহের জন্য মিটার স্থাপন করা হলেও এখনও পানি পাওয়া শুরু হয়নি। এরই মধ্যে মিটার চুরি হওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন। চুরির কারণে পানি সংযোগ পেতে দেরি হবে কিনা, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। দ্রুত মিটার চুরি বন্ধ, চুরি যাওয়া মিটার পুনঃস্থাপন এবং পানি সরবরাহ চালুর দাবি জানিয়েছেন।
উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, পৌর এলাকায় পানির মিটার চুরির বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে। চুরি প্রতিরোধে এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
