রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র সড়কে পঞ্চম দিনের মত অবরোধ চলেছে।
সংকট নিরসনে প্রশাসনের সঙ্গে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোনো সমাধান আসেনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সোমবার সকালে ৬টা থেকে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের ১০ নম্বর এলাকা, হাজাছড়া ও মাচালং এলাকাসহ সাজেক সড়কের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে অবরোধ পালন করা হয়। এতে সড়কে যানচলাচল বন্ধ ছিল।
সাজেকে সৃষ্ট ঘটনা নিরসনে উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের উজো বাজারে এদিন বেলা ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত, খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খাঁন, বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান, সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড় আন্দোলনকারীদের পক্ষে বৈঠক ছিলেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা, সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের কাছে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। তবে পাঁচটি দাবির মধ্যে চারটি দাবি প্রশাসন মেনে নিলেও একটি দাবি মেনে না নেওয়ায় বৈঠকটি অমীমাংসিত ভাবে শেষ হয়।
দাবিগুলো মধ্যে রয়েছে- ১. অবরোধকারীদের উপর বিনা উস্কানিতে হামলার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দিতে হবে এবং হামলায় নেতৃত্বদানকারী বাঘাইহাট ক্যাম্প কমান্ডার ও মাচালং ক্যাম্প কমান্ডারকে পার্বত্য অঞ্চল থেকে বদলি করতে হবে। এ ছাড়া মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ৩০ জনের নাম ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক হাজারজনের নামে করা মামলা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। ঘটনার নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।
২. উজো বাজারের স্থানীয় দোকান ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। উজোবাজার থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে সরিয়ে নিতে হবে।
৩. আইনশৃঙ্খলা কর্তৃক যেসকল নারী-পুরুষকে মারধর করে আহত করা হয়েছে, তাদের সম্পূর্ণ চিকিৎসাভার গ্রহণ করতে হবে।
৪. জেএসএস (সন্তু লারমা গ্রুপ)-এর সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে অতি দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে। তাদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধ করতে হবে।
৫. আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের কাউকে সন্ত্রাসী তকমা লাগিয়ে গ্রেপ্তার, হয়রানি এবং বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি করা যাবে না।
এসব পাঁচ দাবির মধ্যে চারটি দাবি প্রশাসন মেনে নিলেও ৪ নম্বর দাবি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় বৈঠকটি অমীমাংসিত ভাবে শেষ হয়।
বৈঠককের বিষয়ে ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে বৈঠকে প্রশাসন আমাদের পাঁচটি দাবির মধ্যে চারটি দাবি মেনে নিলেও ৪ নম্বর দাবিটি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়নি।
“প্রশাসন ৪ নম্বর দাবিটি সমাধানে তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছে। কিন্তু আমরা তাদের পাঁচ দিন সময় দিয়েছি, প্রশাসন তা মানতে রাজি না হওয়ায় বৈঠক অমীমাংসিত শেষ হয়েছে।”
এ দিকে বৈঠকের বিষয় জানতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীকে একাধিক বার ফোন ও মেসেজ করা হলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান বলেন, “বৈঠকের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। এ বিষয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খাগড়াছড়ি গিয়ে বিস্তারিত ব্রিফ করবেন।”
সাজেক সৃষ্ট ঘটনা নিরসনে জেলা প্রশাসনের গঠিত কমিটির অন্যতম সদস্য শান্তি বিজয় চাকমা বলেন, “সাজেক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উপজেলা প্রশাসন, হেডম্যান কার্বারীদের নিয়ে আলোচনা করেছি। তবে যারা আন্দোলন করছেন দুটি সংগঠন থেকে মতবিনিময় সভায় কেউই আসেননি।
“সভার বিষয়ে আমরা জেলা প্রশাসককে অবগত করব। এরপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
