প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল বিটকয়েনের দাম সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৭৯ হাজার ৩০০ ডলারের নিচে নেমে যায়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) আসন্ন নীতিনির্ধারণী বৈঠককে ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বিশ্ববাজারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বিক্রির চাপ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারেও। গতকাল এশিয়ার বাজারে বিটকয়েনের দাম নেমে ৮০ হাজার ডলারের নিচে চলে যায়। একই সঙ্গে ইথার, এক্সআরপি ও সোলানার মতো অন্যান্য বড় ক্রিপ্টোকারেন্সির দামও কমেছে। খবর বিজনেস টাইমস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল বিটকয়েনের দাম সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৭৯ হাজার ৩০০ ডলারের নিচে নেমে যায়। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও এশিয়ার বাজারে বিকালের দিকে দাম ৮০ হাজার ডলারের আশপাশে লেনদেন হয়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত স্পট বিটকয়েন এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) থেকে গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার মোট ৭৭ কোটি ২৪ লাখ ডলার তুলে নেন বিনিয়োগকারীরা। সপ্তাহের শুরুর দিকে এসব তহবিলে ১০০ কোটি ডলারের বেশি নিট অর্থপ্রবাহ ছিল। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে বিনিয়োগের প্রবণতায়।
বিটকয়েনের দরপতন এমন একসময়ে ঘটছে, যখন বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও চাপে রয়েছে। গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এ দরপতনের পেছনে বড় কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (এআই) খাতে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও প্রশ্ন। খাতটিতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিপুল বিনিয়োগ থেকে ভবিষ্যতে কতটা আয় আসবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এআই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক গতকাল দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। এ সূচককে এআই খাতে বিনিয়োগের প্রবণতা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আগস্টে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সিটির দাম ৮০ হাজার ডলার ছাড়ায়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বিটকয়েনের আর্থিক মূল্য আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে ৮৫ হাজার ডলার অতিক্রম করে।
এর আগে জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে বিশ্ববাজারে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিটকয়েনের দরপতন হয়। ওই সময় ক্রিপ্টোকারেন্সির শীর্ষ টোকেনটির দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে ৬২ হাজার ৮০০ ডলারে নামে। গত বছরের শেষ দিকে বিটকয়েনের দাম রেকর্ড ১ লাখ ২৬ হাজার ডলারে উঠেছিল, ক্রমাগত বিক্রির চাপে তা নেমে আসে ৬০ হাজার ডলারের ঘরে। তবে আগস্টেই চাঙ্গা হতে শুরু করে ক্রিপ্টো বাজার।
