ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘এনার্জি ডমিন্যান্স’ বা জ্বালানি আধিপত্যের ধারণা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল তেল ও গ্যাস উৎপাদন ওয়াশিংটনকে কৌশলগত সুবিধা দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটিকে সীমাহীন ভূরাজনৈতিক প্রভাবের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা বিপজ্জনক।
বিশ্ব জ্বালানি বাজার আবারো দেখিয়ে দিচ্ছে, সামরিক শক্তি দিয়ে সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। ইরান যুদ্ধের আট মাসের মাথায় হরমুজ প্রণালির আশপাশে ট্যাংকারে হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোয় ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি তেলের দামকে আবার ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৭ ডলারে নিয়ে গেছে। পরদিনই দাম কিছুটা কমেছে, কিন্তু এ ওঠানামা বাজারের গভীর অনিশ্চয়তারই প্রতিফলন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘এনার্জি ডমিন্যান্স’ বা জ্বালানি আধিপত্যের ধারণা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল তেল ও গ্যাস উৎপাদন ওয়াশিংটনকে কৌশলগত সুবিধা দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটিকে সীমাহীন ভূরাজনৈতিক প্রভাবের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা বিপজ্জনক। কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এখনো হরমুজ প্রণালি, মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদন কেন্দ্র এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আরেক দফা সরাসরি সংঘাত শুরু হলে এর মূল্য শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বকেই দিতে হবে। তেলের উচ্চ মূল্য পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়াবে, মূল্যস্ফীতি উসকে দেবে এবং আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।
এ অবস্থায় সামরিক উত্তেজনা নয়, কূটনৈতিক সমাধানই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উদ্যোগসহ আঞ্চলিক কূটনীতি তাই গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি নিরাপত্তা আধিপত্যের নয়; স্থিতিশীলতা, বহুমুখী সরবরাহ ও সহযোগিতার বিষয়—ওয়াশিংটনেরও এ বাস্তবতা উপলব্ধি করা প্রয়োজন।
[রয়টার্সের এক নিবন্ধে]
রন বুসো: জ্বালানিবিষয়ক কলামিস্ট, রয়টার্স
