ভারতের উত্তর প্রদেশে হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে নিজের মৃত্যুর নাটক সাজিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ছবিতে এআই দিয়ে নিজের মুখ বসিয়ে, লাশের বদলে ছাগল পুড়িয়ে এবং জাল নথি জমা দিয়ে মৃত্যুসনদও আদায় করেন তিনি। এভাবে প্রায় দেড় বছর ধরে আইনের চোখে মৃত থেকে মুক্ত জীবন কাটালেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন রাজকুমার রাজভর।
গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) তাকে গ্রেফতারের পর পুলিশ জানায়, ২০১৬ সালে যোগেশ সিংকে হত্যার মামলায় বিচার চলছিল রাজকুমারের বিরুদ্ধে। ওই মামলা থেকে বাঁচতে তিনি নিজের মৃত্যুর ভুয়া গল্প তৈরি করেন। মৃত্যুসনদ আদালতে জমা দেওয়ার পর প্রায় দেড় বছর ধরে গ্রেফতার এড়িয়ে চলছিলেন তিনি।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৮ বছর বয়সি রাজকুমার জামিনে ছিলেন। রোববার সকাল ৯টার দিকে উত্তর প্রদেশের মৌ জেলার খাজাজাহানপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি নগর পুলিশ। অভিযানে সহায়তা করে স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (এসওজি) ও নজরদারি দল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ মে গাজীপুরে নিজের মৃত্যুর নাটক সাজান রাজকুমার। শ্মশানে চিতার ওপর রাখা একটি মরদেহের ছবি এআই দিয়ে তৈরি করে তাতে নিজের মুখ বসানো হয়। এরপর মরদেহের পরিবর্তে একটি ছাগল পুড়িয়ে ফেলা হয়। মৃত্যুর ঘটনা বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার শোভাযাত্রা ও শেষকৃত্যের ছবিও সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ পুলিশের। এসব নথির ভিত্তিতে তার নামে মৃত্যুসনদ ইস্যু করে মৌ পৌরসভা।
২০১৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর মুনশিপুরা রেললাইনের কাছে গুলিতে নিহত হন যোগেশ সিং। এ ঘটনায় নিহতের ভাতিজা অবিনাশ সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে রাজকুমার ও তার বন্ধু সুদর্শন রাজভরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়।
পুলিশের অতিরিক্ত সুপারিনটেনডেন্ট অনুপ কুমার জানান, দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি রাজকুমার। পরে তিনি শেয়ারবাজারে লেনদেনের কাজ করতেন। বিভিন্ন শহরের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের কথা বলে টাকা সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।
পুলিশের অভিযোগ, হত্যা মামলার বিচার এড়ানোর পাশাপাশি ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার দায় থেকেও বাঁচতে নিজের মৃত্যুর নাটক সাজান রাজকুমার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে নতুন মামলা করা হয়েছে। আর নিজের মৃত্যুর ভুয়া খবর ছড়িয়ে আইনের চোখে ‘মৃত’ হয়ে থাকা রাজকুমারকে এখন আবার হত্যা মামলার বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
