নড়াইলে সাপের কামড় খেয়ে সেই সাপ নিয়েই হাসপাতালে বৃদ্ধ
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
ব্যাগে সাপ নিয়ে হাসপাতালে আসা আক্রান্ত বৃদ্ধ গোলাম রাব্বানী। ছবি: সংগৃহীত
-->নড়াইল সদর উপজেলার বুড়িখালি গ্রামে গোলাম রাব্বানী (৬০) নামে এক বৃদ্ধ সাপের কামড় খেয়ে সেই সাপ নিয়েই সদর হাসপাতালে হাজির হয়েছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলের দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে গোলাম রাব্বানীকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
গোলাম রাব্বানী সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের বুড়িখালি গ্রামের মৃত জাফর মুন্সির ছেলে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে একই গ্রামের হান্নান খাঁর বাড়িতে একটি সাপ ঢুকে পড়ে। পরে সাপটি ধরতে সেখানে যান গোলাম রাব্বানী। সাপটি ধরে খেলা দেখানোর সময় এক পর্যায়ে তার ডান হাতে সাপটি কামড় দেয়। এরপরও তিনি সাপটিকে ধরে একটি ব্যাগে ভরে নড়াইল সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চলে যান।
নড়াইল সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক শারমিন আক্তার বলেন, সাপের কামড় খেয়ে এক বৃদ্ধ সাপটিকে সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। তাকে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
শরিফুল ইসলাম/নাঈম
আরও পড়ুন
গোপালগঞ্জে লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ শুরু
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ও সুপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বাঘিয়ার বিলের নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যে লালিত আড়াইশ বছরেরও অধিক সময় নিজস্বতা ধরে রাখতে উপজেলার বাঘিয়ার বিলের তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
প্রতি বছরের মতো এ বছরও এই নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার মানুষের মিলনমেলা বসেছে কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ি ইউনিয়নের কালিগঞ্জে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় গোপালগঞ্জসহ মাদারীপুর, পিরোজপুর, নড়াইল ও বরিশাল জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের অর্ধশতাধিক সরেঙ্গা, সিপ, বাছারী ও কোষা নৌকা অংশ নেয়।
ঠিকারি এবং কাশির বাদ্যের তালে তালে জারি ও সারি গান গেয়ে নেচে নেচে নৌকাবাইচে অংশ নেন মাল্লারা। নানা বর্ণে ও বিচিত্র সাজে দৃষ্টিনন্দন এসব নৌকার তুমুল বাইচ হয় এবং একের পর এক কুচ চলে।
প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কালিগঞ্জ বাজার থেকে বুরুয়া ব্রিজ হয়ে খেজুরবাড়ী পর্যন্ত এ নৌকাবাইচ চলবে। তবে এই বাইচে কোনো পুরস্কার দেওয়া না হলেও মাল্লারা নিজ উদ্যোগে এতে অংশ নেন। এখানকার বাড়তি আকর্ষণ হলো নৌকায় নৌকায় মেলা।
খালের দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ নৌকা বাইচ প্রত্যক্ষ করেন। দর্শকদের করতালী ও হর্ষধ্বনিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে এবং গোটা এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।
নৌকার মাল্লা সুকমল সরকার বলেন, ‘আমরা তিন দিনের নৌকা বাইচ উৎসবে অংশ নিয়ে দর্শনার্থীদের আনন্দ দিই, আমরাও আনন্দ উপভোগ করি। শত শত বছর ধরে আমাদের পূর্বপুরুষরা এই উৎসবে অংশ নিয়ে ঐতিহ্য সৃষ্টি করেছে। আমরা সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছি, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও এটিকে টিকিয়ে রাখবে।’
কালিগঞ্জের নৌকা বাইচ দেখতে আসা শিক্ষার্থী অনন্যা হালদার বলেন, ‘জীবনে অনেক স্থানের নৌকা বাইচ দেখেছি, কিন্তু এখানকার মতো এত বড়, রঙিন ও রাজকীয় ঢংয়ের নৌকা বাইচ দেখিনি।’
আরেক দর্শনার্থী গৃহবধূ জ্যোৎস্না অধিকারী বলেন, ‘আমরা এই দিনের অপেক্ষায় থাকি। বাড়ির সবাই ও আত্মীয়স্বজন মিলে এ নৌকা বাইচ উপভোগ করি, যা সবার পরিবারের একটি মিলনমেলায় রূপ নেয়।’
কলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. বিজন বিশ্বাস বলেন, এই অঞ্চলের আড়াইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী বাঘিয়া বিলের নৌকা বাইচ টিকিয়ে রাখতে হবে। আবহমান গ্রামবাংলার অতিপ্রাচীন কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও নিজস্বতা আগামী প্রজন্মকে ধরে রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।
কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার হাওলাদার বলেন, ছোটবেলা থেকে এ নৌকা বাইচ দেখে আসছি। এখানে কখনো কাউকে বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে বাইচের আয়োজন করতে হয় না। স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাঝি-মাল্লারা নৌকা নিয়ে এসে বাইচ করে আসছেন। এখানে কোনো আয়োজক কমিটি বা পুরস্কারের ব্যবস্থাও নেই। তারপরও আড়াইশ বছর ধরে এ নৌকাবাইচ উৎসব হয়ে আসছে। এটি কোটালীপাড়ার একটি ঐতিহ্য। সব প্রতিকূলতা প্রতিহত করে আমরা এটি টিকিয়ে রাখব।’
আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) শেষ দিনে দুপুর থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যায় এই নৌকা বাইচ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
বাদল সাহা/এএফ
আরও পড়ুন
সাজেক সংকট: ভেস্তে গেল আলোচনা, অব্যাহত থাকছে সড়ক অবরোধ
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->সরকারি প্রতিনিধি দল ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তিন ঘণ্টার বৈঠকেও সমঝোতা না হওয়ায় রাঙামাটির সাজেকে চলমান সংকট কাটছে না। তবে আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি নিয়ে দুপক্ষই সম্মত হলেও চার নম্বর দফায় আটকে যায় আলোচনা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রথম বারের মতো সংকট নিরসনে রাঙামাটি থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি খাগড়াছড়ির এমপি ওয়াদুদ ভুঁইয়া ও সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির দুই জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল সাজেক উজোবাজারে যান।
সাজেক উজোবাজারে বিকেল সোয়া তিনটার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয়ে চলে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী। বৈঠকে আন্দোলনকারী সংগঠন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমা ও ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন। পরে রাত হয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার শংকায় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ফিরে আসেন সরকারি প্রতিনিধি দল।
আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া খাগড়াছড়ির সাংসদ ওয়াদুদ ভুঁইয়া ও সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলছেন- ‘আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। চার দফায় সমঝোতা হয়েছে। আশা করি অমীমাংসিত এক দফায়ও সমাধান হবে।’
তবে, ৫ দফা দাবি পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারী সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবু ধন চাকমা। তিনি সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
চতুর্থ দফায় বলা হয়েছে ‘সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জেএস এস সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদেরকে সাজেক থেকে অতি দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে। তাদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধ করতে হবে।’ তবে এই দাবি বাস্তবায়ন নিয়ে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চান সরকার পক্ষ। কিন্তু কেবল তিনদিনের সময় দিতে সম্মত হন আন্দোলনকারীরা।
পরে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে দেওয়া বক্তব্যে ওয়াদুদ ভুঁইয়া বলেন, পাঁচ দাবির মধ্যে চারটির সমঝোতা হয়েছে। আরেকটা বিষয়ে একটু বাকী আছে। রাত হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। সেজন্য ওখানে আমরা আর আলোচনা করি নাই। আশা করি দুয়েক দিনের মধ্যেই বাকী পয়েন্টটা আলোচনা করে সমাধানের দিকে যাবে। সড়কের অবরোধ উঠে যাবে।’
সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন- ‘আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। চুল চেরা বিশ্লেষণ হয়েছে। একটা পয়েন্ট আছে যেটা অমীমাংসিত। আশা করি এটাও সমাধান হবে। ওনারাও শান্তি চান, আমরাও শান্তি চাই।’
এদিকে, রাতে ভিডিও বার্তায় সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবু ধন চাকমা বলেন- ‘৫ দফা দাবির মধ্যে সরকার পক্ষ চারদফায় সম্মত হয়েছেন। বাকী এক দফার জন্য আমরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত আছি। তবে পাঁচ দফা দাবি পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। এ সময়ে সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে না আসার জন্য নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।’
এর আগে সাজেক সংকট নিয়ে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় হেডম্যান ও কার্বারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান। সভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
বেলা ১১টায় শুরু হওয়া ওই সভায় সাজেকে সাম্প্রতিক ঘটনায় গঠিত সার্চ কমিটির তিন সদস্য সিএইচটি হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ভবতোষ দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা ও লংগদু উপজেলা হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা কল্যাণ মিত্র চাকমা বক্তব্য রাখেন।
সভায় সাজেকে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা, এর সূত্রপাত, আন্দোলনকারীদের দাবিদাওয়া এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সাজেকের পর্যটন খাত সচল রাখা, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য বজায় রাখা এবং পরিবহণসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।
এদিকে, রাঙামাটির সাজেক সড়কে পঞ্চম দিন অতিবাহিত হয়েছে ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত দুই সংগঠনের অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধে। বন্ধ রয়েছে পর্যটক প্রবেশ ও যানবাহন চলাচলও। এতে সাজেকের পর্যটন ব্যবসা, স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে প্রভাব পড়ছে। বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল রিসোর্ট ও পরিবহণসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।
সাজেক সংকট নিরসনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য রবিবার (২৫ অক্টোবর) গঠিত তিন সদস্যের সার্চ কমিটি কাজ শুরু করে। এরপরই সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সাজেক পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে বিপুল অঙ্কের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা আর দখল হাতছাড়া এলাকা পুনরুদ্ধার করা নিয়ে সন্তুলারমার জেএসএস ও প্রসিত খীসার ইউপিডিএফের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র সংঘাত চলছে। এর জেরেই জেএসএসকে সাজেক থেকে তাড়িয়ে দিতে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে পর্যটকদের জিম্মির চেষ্টা করে এবং কৌশল হিসেবে গত ১১ ও ১৫ অক্টোবর দুই দফায় সাজেক সড়ক অবরোধ ডাক দেন আন্দোলনকারীরা।
জুয়েল/নাঈম
আরও পড়ুন
মেঘনায় কার্গো জাহাজের ধাক্কায় ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ২ জেলে
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
প্রতীকী ছবি।
-->চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় কর্ণফুলি নদীতে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে দুই জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রলারে থাকা অন্য জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা জেলে কামাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে, রবিবার রাত ৪টার দিকে চট্টগ্রামের আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ দুই জেলে হলেন- নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিরাজ উদ্দিন ও শরীফ উদ্দিন।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা জেলে কামাল উদ্দিন জানান, চার দিন আগে মাছ ধরার কাজে ব্যবহারের জন্য একটি লালবোট কিনতে তারা চট্টগ্রামের বন্দরটিলা এলাকায় যান। বোটটি (মাছ ধরার ট্রলার) কেনার পর রবিবার রাতে সেটি নিয়ে হাতিয়ার উদ্দেশে রওনা হন তারা। পথে আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতে পৌঁছালে ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে নদীর স্রোতে বোটটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। এ সময় পেছনে থাকা একটি কার্গো জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বোটটি নদীতে ডুবে যায়।
কামাল উদ্দিনের ভাষ্য, দুর্ঘটনার সময় তিনি কার্গো জাহাজের একটি শিকল ধরে ঝুলে থাকেন। পরে জাহাজের লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। তবে অন্য দুই জেলে মিরাজ উদ্দিন ও শরীফ উদ্দিনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে হাতিয়ার নলচিরা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আশিষ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘আমি বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আমরা সদরঘাট থানার সঙ্গে কথা বলে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’
হানিফ/এএফ
আরও পড়ুন
ইনানীতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৬ কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ রিসোর্ট
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে অবৈধ হোটেল-রিসোর্ট উচ্ছেদে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের প্রথম দিনেই উখিয়ার ইনানী সৈকত এলাকায় প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি চারতলা রিসোর্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে ইনানী সৈকত এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। কউকের নেতৃত্বে অভিযানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।
ভবন মালিকের দাবি, ভবনটি নির্মাণে ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল এবং উচ্ছেদ অভিযানের আগে পাওয়া চারটি নোটিশের জবাবও দিয়েছিলেন তিনি। তবে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) কর্মকর্তা বলছেন, ভবনটি অবৈধভাবে নির্মিত হওয়ায় মালিকপক্ষকে বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও ব্যবস্থা না নেওয়ায় উচ্ছেদ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের ইনানীতে নৌবাহিনীর জেটির পূর্ব পাশে তারকা হোটেল রয়েল টিউলিপ এবং উত্তর পাশে বে ওয়াচ হোটেল। এই দুই হোটেলের মাঝামাঝি স্থানে ছিল চারতলা এ রিসোর্ট ভবনটি।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে ভবনটির সামনে উচ্ছেদ অভিযানের জন্য খননযন্ত্র নিয়ে আসা হয়। শ্রমিকরাও সেখানে উপস্থিত হন। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা ভিড় করেন। দুপুরে ভবনের নিচে ও দুই পাশে থাকা ১০ থেকে ১২টি দোকানঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর চারতলা ভবনের কাচ ভেঙে মূল ভবনের পিলার অপসারণের কাজ শুরু হয়।
কউকের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) সানজিদা বেগম জানান, অবৈধভাবে নির্মিত ভবনটি নিজ উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে মালিকপক্ষকে চারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নোটিশ দেওয়ার পরও ভবন অপসারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ কারণে যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
ভবনটির মালিক শহিদুল হক বলেন, ‘২০১৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করি। সম্প্রতি নিচতলায় কয়েকটি দোকান, দ্বিতীয় তলায় রেস্তোরাঁ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় পর্যটকদের থাকার জন্য কয়েকটি কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছিল। প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি কিছুদিনের মধ্যে উদ্বোধনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তার আগেই সেটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’
নোটিশের জবাব না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শহিদুল হক বলেন, ‘চারটি নোটিশেরই জবাব দিয়েছি। ভবন নির্মাণের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও রয়েছে। তবে সেসব কাগজপত্র আমলে নেওয়া হয়নি।’
গত ১৭ অক্টোবর সকালে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে তিনতলা টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লেগে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর মেরিন ড্রাইভের পাশে কউকের অনুমোদন ছাড়া হোটেল-রিসোর্টসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে প্রায় ২০০টি রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। এসব স্থাপনার বেশির ভাগ কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি এবং কোনোটিরই অনুমোদন নেই। অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে সম্প্রতি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে। মেরিন ড্রাইভে কোনো অবৈধ স্থাপনা রাখতে দেওয়া হবে না।
মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘২০১৬ সালে কউক প্রতিষ্ঠার পর থেকে কক্সবাজার পৌরসভাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় ১ হাজার ৭০০টি নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে অবকাঠামো নির্মাণ নিষিদ্ধ থাকলেও সেখানে ইতোমধ্যে প্রায় আড়াই হাজার স্থাপনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে দুই শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। তারকা মানের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বেশির ভাগেরই বৈধ অনুমোদন নেই।’
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে অনেক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) সমুদ্রসৈকতের ৫০০ গজের মধ্যে এবং শহর এলাকায় পৌরসভার ৩০০ গজের মধ্যে।’
তারেকুর রহমান/নাঈম
