চোরবাগানের মণ্ডপে এক্সিট গেটের তিনটি সিসিটিভির মধ্যে দু’টি সিসিটিভিই বন্ধ ছিল। মণ্ডপে ৩০টি সিসিটিভির মধ্যে ১৭টিই ছিল লোকদেখানো। চোরবাগানের মণ্ডপে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই বিপর্যয়ে গোয়েন্দা পুলিশ মূলত দায়ী করছে পুজো কমিটিকেই।
পুলিশের জেরার মুখে চোরবাগানের পুজো কমিটির ধৃত সেক্রেটারি রাজকুমার সেওদা ওরফে রাজা শর্মা ওরফে মোটা রাজা জানিয়েছেন, পুজোর আয়োজন থেকে শুরু করে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, কোনও অভিজ্ঞতাই ছিল না পুজো কমিটির সদস্যদের। তা সত্ত্বেও তাঁরা পুজোর দায়িত্ব নেন। তৃতীয়া থেকে মণ্ডপে ভিড় বাড়ছে দেখেও বিশেষ কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি পুজো কমিটি। বুধবার পুলিশ হেফাজত শেষে ধৃতদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হবে। এদিকে, ইতিমধ্যেই মণ্ডপ শিল্পী সুশান্তশিবানী পালকে লালবাজারে তলব করে গোয়েন্দা পুলিশ জেরা করেছে। তাঁর কাছ থেকে মণ্ডপের নকশা, পরিকল্পনা ও সেগুলি কতটা মানা হয়েছিল, মণ্ডপের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ কীভাবে তৈরি করা হয়, কেনই বা ভিড়ের চাপে এই বিপর্যয় হল, তা শিল্পীর কাছ থেকে গোয়েন্দা পুলিশ জানার চেষ্টা করে। তদন্তের স্বার্থে মেদিনীপুর, নদিয়ার চাকদহ, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় গিয়েছে পুলিশের টিম। মৃতদের যে আত্মীয়রা ঘটনাস্থলে ছিলেন ও আহতদের সঙ্গে কথা বলছেন গোয়েন্দারা।
গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, চোরবাগানের মণ্ডপে বাইরে বের হওয়ার গেটের কাছে তিনটি সিসিটিভির দু’টিই বন্ধ। একটি সিসিটিভিতে দেখা গিয়েছে, তিন মিনিটের মধ্যে সবথেকে বেশি বিপর্যয় হয়েছে। এই ফুটেজগুলি পেতে বিভিন্ন কোণ থেকে পাঁচটি সিসিটভির ফুটেজ পুলিশ বিশ্লেষণ করছে। যেহেতু ৩০টির মধ্যে ১৭টি সিসিটিভি লোকদেখানো, তাই বাকি ১৩টি থেকে সিসিটিভির ফুটেজ উদ্ধার করাই পুলিশের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। দু’টি সিসিটিভির ডিভিআর বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটিতে ১৪টি ও অন্যটিতে ১৬টি ক্যামেরার ফুটেজ থাকার কথা। কিন্তু একটি ডিভিআর থেকে ১৩টি ফুটেজ উদ্ধার হয়েছে। সিসিটিভির ফুটেজ, ২৫ জন প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও মণ্ডপের কাঠামো সংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে সম্পূর্ণ চিত্র পুনর্গঠনের চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
