বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়তে ইস্পাহানির উদ্যোগ ‘ক্রাঞ্চ আউট বুলিং’
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
বক্তব্য রাখছেন সামিলা হক অর্চনা। ছবি: খবরের কাগজ
-->শিশুদের জন্য নিরাপদ, আনন্দময় ও বুলিংমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়তে ইস্পাহানি মাইটি চিপস আয়োজন করেছে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ‘ক্রাঞ্চ আউট বুলিং উইথ মাইটি চিপস’-এর দ্বিতীয় সিজন। ‘মাইটি কিডসরা বুলিং করে না, মাইটি কিডসরা বুলিংয়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়’–এই বার্তাকে সামনে রেখে পরিচালিত উদ্যোগটির লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের বুলিং সম্পর্কে সচেতন করা, নিজেদের অনুভূতি প্রকাশে উৎসাহিত করা এবং বুলিং প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে অনুপ্রাণিত করা।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজনের পর এবার চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে ক্যাম্পেইনটির কার্যক্রম।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় মির্জা আহমেদ ইস্পাহানি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পর্যায়ক্রমে মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ এবং ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজেও ক্যাম্পেইনটি অনুষ্ঠিত হবে।
ক্যাম্পেইনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘স্পিক আপ লেটারবক্স’–যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে বুলিংয়ের অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত সমস্যা কিংবা মনের কথা প্রকাশের সুযোগ পায়। পাশাপাশি শিশু কাউন্সেলরদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সচেতনতামূলক সেশনে বুলিংয়ের ধরন, এর মানসিক প্রভাব এবং এমন পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ক্যাম্পেইনে পাপেট শো, মাইম শোসহ বিভিন্ন সৃজনশীল অ্যাক্টিভিটি রাখা হয়। আয়োজকরা মনে করেন, বুলিংমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সচেতন অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
ইস্পাহানি ফুডস লিমিটেডের মার্কেটিং ম্যানেজার সামিলা হক অর্চনা বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে মাইটি চিপসের সৌজন্যে আমরা বাচ্চাদের জন্য ‘ক্রাঞ্চ আউট বুলিং’ নামে একটি প্রোগ্রামের আয়োজন করে আসছি। এর উদ্দেশ্য হলো–বাচ্চারা অনেকভাবে অনেক কিছুতে মানসিক সমস্যায় পড়ে। বুলিংয়ের শিকার হয়, অনেক সময় তারা অনেক কিছু বলতে পারে না। সেগুলো যাতে তারা সহজভাবে বাবা-মা, বন্ধু ও শিক্ষকদের বলতে পারে, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আমাদের এই প্রোগ্রাম।’ প্রতিষ্ঠানটির সেলস ম্যানেজার নুর নবী বলেন, ‘আমরা আশা করি, এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমাদের বাচ্চাদের মধ্যে সচেতনতাবোধ তৈরি হবে।’
এসএন/
আরও পড়ুন
চাঁদপুরে নৌ পুলিশের অভিযানে ৪০ জেলে আটক, ৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্মা-মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় মা ইলিশ শিকার করায় ৪০ জেলেকে আটক করেছে চাঁদপুর নৌ থানা পুলিশ। এর মধ্যে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর ৭ জন অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজমগীর হোসেন।
এর আগে, নৌ পুলিশ সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মেঘনা নদীর সদর উপজেলার অভয়াশ্রম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় আটক জেলেদের সঙ্গে থাকা ৩৩ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টজাল, ১০টি মাছ ধরার নৌকা ও ৭ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়।
চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজমগীর হোসেন বলেন, আটক ৪০ জেলের মধ্যে ৭ জন অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা রেখে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ৩৩ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত ১২টি মামলা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, জব্দ জাল আগুনে পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়েছে। নৌকা থানা হেফাজতে এবং ইলিশ স্থানীয় দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। আর মামলার আসামি জেলেদের দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ফয়েজ/নাঈম/
আরও পড়ুন
খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগ: কুড়িগ্রামে ৪ খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
খবরের কাগজ গ্রাফিকস
-->কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামে সরকারি চাল ও ধান মজুতে অনিয়মসহ দুই কোটি টাকার অধিক মূল্যের খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে জেলার চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় কুড়িগ্রামের উপসহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম সিনিয়র জেলা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় আসামি করা হয়েছে কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরীফ আহমেদ, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম এলএসডির সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হালিমুর রহমান ও কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ হামিদুল হককে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী নিজেই। তিনি বলেন এর আগে কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামে অভিযান চালানো হয় অভিযানে বড় ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে অনিয়মে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে কমিশন বরাবর সুপারিশ পাঠানো হয়। কমিশনের অনুমতি সাপেক্ষে আজ মামলাটি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগে করা হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহের নথি পর্যালোচনা এবং বাস্তব মজুত যাচাইয়ে বিভিন্ন অসংগতি পাওয়া যায়। এর মধ্যে নথিতে থাকা চালের সঙ্গে বাস্তব মজুতের ঘাটতি, সংগ্রহ করা ধানের হিসাবের অসংগতি এবং বিল পরিশোধের পরও গুদামে না পাওয়া ধানের বিষয় রয়েছে।এজাহারে বলা হয়, চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট দল কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের শিশু নিকেতন ও খলিলগঞ্জ ব্লকে অভিযান চালায়। এ সময় খামাল কার্ড, গুদাম রেজিস্টার, সেন্ট্রাল লেজার ও গুদাম লেজারের তথ্যের সঙ্গে বাস্তব মজুত মিলিয়ে দেখা হয়। এতে নথিভুক্ত মজুতের তুলনায় ৪২ দশমিক ২০৫ মেট্রিক টন চাল কম পাওয়া যায়। প্রতি মেট্রিক টন চালের মূল্য ৫৮ হাজার ৩১৮ টাকা ৯৮ পয়সা হিসাবে এর মূল্য দাঁড়ায় ২৪ লাখ ৬১ হাজার ৩৫২ টাকা।এছাড়া খলিলগঞ্জ ব্লকের টিএফএস-৭ নম্বর গুদামে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৭১১ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের তথ্য নথিতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৪০ মেট্রিক টন ধানের বিল পরিশোধের তথ্য ছিল। যাচাইয়ে ১৯০ মেট্রিক টন ধান গুদামে পাওয়া গেলেও বাকি ৫০ মেট্রিক টনের সন্ধান মেলেনি।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাবি করেন, ধানগুলো ছাঁটাইয়ের জন্য মেসার্স এলাহী অটো রাইস মিলে পাঠানো হয়েছিল। তবে তদন্ত কমিটি সরেজমিনে ওই মিল পরিদর্শন করলে মালিক মো. মুকুল সরকার জানান, তার মিলে কোনো ধান পাঠানো হয়নি। একই গুদামের নথিতে থাকা আরও ৪৭১ মেট্রিক টন ধানের বাস্তব মজুত বা সংগ্রহের পক্ষে সমর্থনকারী তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন ধানের মূল্য ৩৪ হাজার টাকা হিসাবে এসব ধানের মূল্য এক কোটি ৬০ লাখ ১৪ হাজার টাকা। চাল ও ধানের মজুতসংক্রান্ত এসব অসংগতির কারণে মোট ২ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫২ টাকা মূল্যের সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এছাড়া শিশু নিকেতন ব্লকের এসএফ-৩ নম্বর গুদামের পশ্চিম গেটসংলগ্ন স্থানে নথিবহির্ভূতভাবে ১১৯ মেট্রিক টন চালের মজুত পাওয়া যায়। এ চালের সংগ্রহ, ওজন, মান, মজুত ও পরিবহনসংক্রান্ত বৈধ নথি দেখাতে পারেননি গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ। প্রতি মেট্রিক টন চালের মূল্য হিসাবে এর দাম ৬৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫৯ টাকা। গত ১২ জানুয়ারি চালগুলো জব্দ করে জিম্মায় দেওয়া হয়।দুদকের অভিযোগ, চার কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহসংক্রান্ত রেকর্ডে অসংগতি সৃষ্টি ও ব্যবহার করে খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করেছেন। এ অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি নথিবহির্ভূত চাল মজুতের ঘটনায় শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০(খ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বাদী দুদকের কুড়িগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, অভিযান চালানোর পরই কমিশন বরাবর প্রতিবেদন দেয়া হয়। এতে মামলা করার অনুমতি চাওয়া হয়। মাঝখানে কমিশন ছিলনা। কমিশন হওয়ার পর মামলা করার অনুমতি দেয়া হয়। আজ কুড়িগ্রাম সিনিয়র জেলা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
এসএন/
আরও পড়ুন
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: দ্বিতীয় ইউনিট ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান রূপপুরে
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
ইউরেনিয়াম বহণকারী গাড়িবহর গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত
-->ছয় দিনের ব্যবধানে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্পে এসে পৌঁছেছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে সড়ক পথে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে।
এর আগে সোমবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামবাহী কার্গো বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে কঠোর নিরাপত্তায় সড়ক পথে মঙ্গলবার সকালে রূপপুরে এসে পৌঁছায় ইউরেনিয়াম। বিষয়টি নিশ্চত করেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ডা. মো. কবীর হোসেন।
প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম চালান ৩ ও দ্বিতীয় চালান রূপপুরে আসে ২১ অক্টোবর। আগামী বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি লোডিং শুরু হতে পারে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্রে জানা গেছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম জানিয়েছে, কার্গো বিমানের মোট সাতটি চালানে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আসবে রূপপুরে। এ ছাড়া প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দুটি কার্গো বিমানে রূপপুরে আসবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মোট নয়টি চালানে ইউরেনিয়াম জ্বালানি আনা হবে।
এদিকে প্রকল্প সুত্রে জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। বায়েরার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক ধাপ ‘সি স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপে প্রবেশ করবে প্রথম ইউনিটট।
রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় গত সপ্তাহে রাশিয়ার রাষ্টীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসে। প্রতিনিধিদলটি বিজ্ঞান রূপপুর প্রকল্প পরিদর্শন করে ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মন্ত্রীকে প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়সহ সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। সাক্ষাতের বিষয়টি বাংলাদেশের রাশিয়ার দূতাবাস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে জানায়।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ২০-২৩ অক্টোবর পর্যন্ত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে বাংলাদেশ সফর করে। এ সময় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের সব পরীক্ষা ও ফিজিক্স টেস্টও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বায়েরার অনুমোদন পাওয়ার পর প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হবে। পরবর্তী কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে ধাপে ধাপে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হবে।
রূপপুর প্রকল্পের মাধ্যমে পরমাণুসমৃদ্ধ দেশগুলোর এলিট প্ল্যাটফর্ম বা নিউক্লিয়ার ক্লাবের সদস্য হয়েছে বাংলাদেশ। প্রকল্পটির দুটি রি-অ্যাক্টর থেকে উৎপাদিত হবে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে কারিগরি সহায়তা ও আর্থিক ব্যয়ের বেশিরভাগই এসেছে রাশিয়া থেকে। প্রকল্পটির মূল নকশাকার ও প্রধান ঠিকাদার হিসেবে নির্মাণকাজের দায়িত্ব পালন করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ। রাশিয়ার দেওয়া প্রকল্প ব্যয়ের ৯০ শতাংশ সরবরাহ ঋণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প এটি।
জাহাঙ্গীর হোসেন/এসএন
আরও পড়ুন
সম্ভাবনা যাচাইয়ে বেপজার প্রতিনিধি দল চাঁদপুরে ইপিজেড হলে চাকরি পাবেন ৫০ হাজার মানুষ
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->চাঁদপুরে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপিত হলে সরাসরি প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এ সম্ভাবনা যাচাইয়ে ইপিজেড ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য জেলার তিনটি স্থান পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) একটি প্রতিনিধি দল।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বেপজার প্রতিনিধি দল চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে ইপিজেড স্থাপনের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করে। একই দিন সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন ও হাইমচর উপজেলায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থানও ঘুরে দেখে দলটি।
বেপজার নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রহমান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্যতা ও নির্ধারিত স্থানগুলোর উপযোগিতা সরেজমিনে যাচাই করে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা ইপিজেডের সহকারী প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলাম, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম, নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের সহকারী পরিচালক মো. বোরহান উদ্দিনসহ বেপজার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে চাঁদপুরে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসার পাশাপাশি চাঁদপুর ও আশপাশের জেলার তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বেপজার নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে একটি ইপিজেড ও একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের আশ্বাস দিয়েছেন। ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করা হলে সেখানে সরাসরি প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি এ কেন্দ্রকে ঘিরে আশপাশের এলাকায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৭ থেকে ৮ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।
ফয়েজ/রিফাত/
