রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কারের দাবিতে ফের সরব হল ভারত। একই সঙ্গে এ-ও বুঝিয়ে দিল, নতুন কোনও দেশকে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য করা হলে, তাকেও ভেটোর অধিকার দিতে হবে। কারণ, ভেটো ক্ষমতা না দিয়ে স্থায়ী সদস্যদের একটি নতুন শ্রেণি তৈরি করা হলে, তা ওই সদস্যদের ‘দ্বিতীয় শ্রেণির’ মর্যাদায় নামিয়ে আনবে।
১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য পাঁচ দেশ— আমেরিকা, ব্রিটেন, চিন, রাশিয়া এবং ফ্রান্স। এ ছাড়া ১০টি দেশকে দু’বছরের মেয়াদে অস্থায়ী সদস্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। তবে ভেটো ক্ষমতা রয়েছে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের হাতেই। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের মূল ক্ষমতা ওই পাঁচ শক্তিধরের হাতেই রয়ে গিয়েছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সদস্য হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশের সংখ্যা বাড়াতে হলে রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদে সংস্কার করা দরকার।
সোমবার রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতীয় দূত হরিশ পর্বতানেণি জানান, নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কার হলে, সেখানে যতদিন ভেটো ক্ষমতার অস্তিত্ব থাকবে, তা সব স্থায়ী সদস্যের কাছেই থাকা উচিত। “ন্যায়বিচার এবং সমতা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক স্থায়ী সদস্যের সমানাধিকার থাকা দরকার,” বলেন তিনি। পর্বতানেণির কথায়, “ভেটোর বিষয়ে ভারতের নীতিগত অবস্থান সকলের জানা। সংস্কার হওয়ার পরে যতদিন ভেটো ব্যবস্থা থাকবে, নিরাপত্তা পরিষদের সব স্থায়ী সদস্যের কাছেই এই ক্ষমতা থাকা উচিত।”
রাষ্ট্রপু়ঞ্জে ভেটো সংক্রান্ত বিষয়ে এক আলোচনার সোমবার বক্তৃতা করছিলেন ভারতীয় দূত। সেখানেই দিল্লির অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, “নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের নামে যদি ভেটো ক্ষমতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী সদস্যদের একটি নতুন শ্রেণি তৈরি করা হয়, তবে তারা কার্যত ‘দ্বিতীয় শ্রেণির’ সদস্য হয়েই থেকে যাবে। এতে বর্তমান পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতায় কোনও বদল আসবে না।” ভারতের বক্তব্য, বৈষম্য দূর করতে চায় দিল্লি। কিন্তু এমন কোনও পদক্ষেপ করা হলে তা বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপুঞ্জে সংস্কারের দাবিতে সম্প্রতি রাশিয়াকে পাশে পেয়েছে ভারত। রাশিয়া জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের তালিকায় পশ্চিমি কোনও দেশের অন্তর্ভুক্তির আর প্রয়োজন নেই। বরং এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করা দরকার।
