ডেঙ্গু আক্রান্ত সন্তান আইসিইউতে, বাইরে বসে মহান আল্লাহর দরবারে মায়ের অন্তহীন প্রার্থনা। সন্তানের সর্বশেষ পরিস্থিতি দেখতে একটু পরপর আইসিইউর ভেতরে যাচ্ছেন বাবা। যিনি নিজেও একজন চিকিৎসক। হাজারও রোগীর চিকিৎসা করেছেন; কিন্তু আজ অসহায় এক অবস্থার মুখোমুখি তিনি।
এই দম্পতির তিন সন্তানই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। এর মধ্যে বড় মেয়ে লাইফ সাপোর্টে। কিংকর্তব্যবিমূঢ় চিকিৎসক বাবা কী করবেন? কিছুই যেন বুঝে উঠতে পারছেন না।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে চিকিৎসক বাবা বলেন, ‘আজ অষ্টম দিন চলছে। সে লাইফ সাপোর্টে আছে, ভেন্টিলেশনে আছে। সবাই দোয়া করবেন।’
তবে, মায়ের শত প্রার্থনা আর চিকিৎসক বাবার প্রাণান্ত চেষ্টাতেও ফেরানো যায়নি ১৫ বছরের আরশীকে। ডেঙ্গুতে রোববার দুপুরে মারা যান তিনি।
কলিজা ছিঁড়ে যাওয়া এমন খবরে শোকস্তব্ধ পরিস্থিতির মাঝেও এই দম্পতিকে দৌড়াতে হচ্ছে, হাসপাতালে ভর্তি বাকি দুই সন্তানের কাছে। নিষ্ঠুর এক সময়ের মুখোমুখি তারা।
হামের পাশাপাশি প্রতিদিনই প্রাণ নিচ্ছে ডেঙ্গু। ধ্বংস হচ্ছে এক একটি পরিবার। কেউ হারাচ্ছেন বাবা-মা, কেউ সন্তান। কেউবা আপনজন।
সেই পরিবারের এক সদস্য জানান, ‘আমাদের পরিবারে অনেক সদস্যই চিকিৎসক। চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি হয়নি, এটা আমি বলব। কিন্তু তারপরও একটি ছোট্ট মশার কামড়ে একটি তাজা প্রাণ চলে গেল। অথচ তাকে বাঁচানোর জন্য আমরা কিছুই করতে পারলাম না।’
চলতি বছরে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৩৮৪ জন। বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, নভেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়বে। তাতে মৃত্যুর এই মিছিল হতে পারে আরও দীর্ঘ।
