গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মদ্যপানের পর অসুস্থ হয়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অসুস্থ অপর এক যুবক ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্গাপূজার সময় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত দুজন হলেন উপজেলার দিঘলীয়া গ্রামের মহেন্দ্র নাথ হালদারের ছেলে মনোতোষ হালদার (৩৮) এবং একই গ্রামের গেদু বাড়ৈর ছেলে কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈ (৩৮)। অসুস্থ অপর যুবকের নাম অনিল বাড়ৈ।
গত শনি ও রোববার (২৪ ও ২৫ অক্টোবর) ঢাকার দুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার, শারদীয় দুর্গোৎসবের ষষ্ঠীপূজার রাতে মনোতোষ, কৃষ্ণকান্ত ও অনিল ডেকোরেটরের কাজ করতে পাশের খাগবাড়ি গ্রামে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁরা মদ্যপান করেন। এর কিছুক্ষণ পরই তিনজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তাঁদের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান।
ঢাকার পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) মনোতোষ হালদার মারা যান। অন্যদিকে, গত রোববার (২৫ অক্টোবর) শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈ।
নিহতদের পরিবারের বক্তব্য
কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈর ভাই বিষ্ণু বাড়ৈ জানান, পূজায় ডেকোরেটরের কাজ করতে গিয়ে তাঁর ভাইসহ তিনজন মদ্যপান করেছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাঁদের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর ভাই মারা যান। এ ঘটনায় তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
মনোতোষ হালদারের ভাই উত্তম হালদার জানান, পূজায় কাজ করার সময় তাঁর ভাই মদ্যপানের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ঢাকার পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ‘মদ্যপানের পর যুবকদের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
