ঢাকা: ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী-কে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে নতুন মামলা হয়েছে। এ মামলায় অভিযোগ আমলে নিয়ে আগামী ২৩ নভেম্বর তাকে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মু. মাহবুব-উল-আলমের আদালতে সানায়া চৌধুরী বাদী হয়ে এ মামলা করেন। বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদালত অভিযোগ আমলে নেন এবং তানজিন তিশাকে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। বাদীর আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আগের একটি মামলার জেরে বাদীকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি ও মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন সানায়া চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, গত ৭ নভেম্বর মোবাইল ফোনে তাঁকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘আমি যদি তোমার পিছনে লাগি, তুমি কিন্তু বাঁচবা না…।’ এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় হেনস্তা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, আগের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। অজ্ঞাত ব্যক্তিদের পাঠিয়ে মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া এবং দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে এবং থানা কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ন্যায়বিচার চেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নতুন মামলাটি করেন সানায়া।
ফ্যাশন ডিজাইনার সানায়া চৌধুরী ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে একটি মামলা করেন। দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় করা ওই মামলায় আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের ১২৭ নম্বর সড়কে সানায়া চৌধুরীর একটি ফ্যাশন হাউস ও স্টুডিও রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তানজিন তিশা তার কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নেন। অনুষ্ঠান শেষে পরদিন শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন সানায়া।
অভিযোগ অনুযায়ী, শাড়িটি ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর তানজিন তিশাকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান সানায়া। এরপর শাড়ি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১৩ ও ১৮ মার্চ দুটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তানজিন তিশার সঙ্গে দেখা হলে আবারও শাড়িটি ফেরত চান সানায়া। তবে তখনো শাড়িটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া ওই বছরের ১০ নভেম্বর ফেসবুক মেসেঞ্জারে ফোন করে তানজিন তিশা তাঁকে মামলা করার এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সানায়া। এ ঘটনায় ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেন তিনি।
আগের মামলায় তদন্ত শেষে পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম গত ২৫ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি- বলে উল্লেখ করা হয়।
পরে ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত ২৫ অক্টোবর আদালতে নারাজি আবেদন করেন সানায়া চৌধুরী। আদালত তার নারাজি আবেদন মঞ্জুর করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, আগের মামলার জেরে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে করা নতুন মামলায় তানজিন তিশা-কে আগামী ২৩ নভেম্বর আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে হবে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে তার বক্তব্য এখনো জানা যায়নি।
