স্পোর্টস ডেস্ক: ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের ৭০তম আসর আজ (২৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টায় লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের বাইরে আয়োজিত হচ্ছে এই অনুষ্ঠান।
পুরুষদের পুরস্কারের প্রধান দাবিদারদের মধ্যে রয়েছেন- হ্যারি কেন, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিন ইয়ামাল। আর নারী বিভাগের পুরস্কারের অন্যতম প্রধান দাবিদার আলেক্সিয়া পুতেয়াস।
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান সরাসরি দেখতে চাইলে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের আজ রাতে বেশ রাত পর্যন্ত জেগে থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে সেরা নারী ফুটবলার, কোচ, গোলরক্ষক, তরুণ খেলোয়াড় ও ক্লাবকেও পুরস্কৃত করা হবে।
মূল অনুষ্ঠান শুরুর ২ ঘণ্টা আগে থেকে লালগালিচার আয়োজন দেখা যাবে। ফুটবলের অনেক বড় তারকাকে এ সময় অনুষ্ঠানের ভেন্যুতে প্রবেশ করতে দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দর্শকেরা ডিএজেডএনের ওয়েবসাইটে গিয়ে বা অ্যাপ ব্যবহার করে অনুষ্ঠানটি দেখতে পারবেন। যাদের অ্যাকাউন্ট নেই, তারাও বিনামূল্যে নিবন্ধন করতে পারবেন। এই স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মটি বিশ্বের প্রায় ২০০টি বাজারে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারের স্বত্ব পেয়েছে।
এ ছাড়া ব্যালন ডি’অরের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে পুরো সন্ধ্যা জুড়ে বিভিন্ন আপডেট, র্যাঙ্কিং ও ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
কোথায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান
৭০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের বাইরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান। লন্ডনের বিখ্যাত প্যালাডিয়াম থিয়েটারে বসবে এবারের আসর। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবেন ফ্রান্স ও আর্সেনালের সাবেক স্ট্রাইকার থিয়েরি অঁরি এবং ক্রীড়া উপস্থাপক কেট স্কট।
লন্ডনকে ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনেও রয়েছে একটি বিশেষ কারণ।
১৯৫৬ সালে প্রথম ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার স্ট্যানলি ম্যাথিউস। তাঁকে সম্মান জানাতেই ৭০তম আসরটি ইংল্যান্ডে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আয়োজকেরা।
পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জয়ের ফেভারিট
পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন হ্যারি কেন। বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিকভাবে গোল করে অসাধারণ একটি মৌসুম কাটিয়েছেন। তার অবদানে বুন্দেসলিগার শিরোপাও জিতেছে বায়ার্ন।
বেশ কয়েক মৌসুম ধরে ইউরোপের অন্যতম সর্বোচ্চ গোলদাতা কেন। তবে এখন পর্যন্ত ব্যালন ডি’অর জেতা হয়নি তার। লন্ডনে এই পুরস্কার জিততে পারলে ইংল্যান্ডের অধিনায়কের জন্য মুহূর্তটি আরও বিশেষ হয়ে উঠবে।
তবে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে হবে ফুটবলের দুই বড় তারকার সঙ্গে।
রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পেও শক্তিশালী দাবিদার। ২০২৬ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতাসহ দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে বার্সেলোনার তরুণ ফুটবলার লামিন ইয়ামালও পুরস্কার জয়ের দৌড়ে ভালোভাবেই রয়েছেন। স্পেনের এই তরুণ ইতোমধ্যে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও ছিল তার।
এত অল্প বয়সে একাধিক রেকর্ড গড়া ইয়ামালের জন্য ব্যালন ডি’অর জয় হবে আরেকটি অসাধারণ অর্জন। ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আরও রয়েছেন- আর্লিং হলান্ড, জুড বেলিংহাম, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, মাইকেল ওলিসে, ওসমান দেম্বেলে ও লিওনেল মেসি।
নারী বিভাগের ব্যালন ডি’অর কে জিততে পারেন?
নারী বিভাগের পুরস্কার জয়ের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার আলেক্সিয়া পুতেয়াস। স্পেনের এই মিডফিল্ডার ২০২১ ও ২০২২ সালে পুরস্কারটি জিতেছিলেন। লন্ডন সিটি লায়োনেসেসে যোগ দেওয়ার আগে বার্সেলোনার হয়ে আরও একটি দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন তিনি।
তৃতীয়বার এই পুরস্কার জিততে পারলে স্বদেশি আইতানা বোনমাতির রেকর্ডে ভাগ বসাবেন পুতেয়াস। বোনমাতি ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টানা তিনবার পুরস্কারটি জিতেছিলেন।
দুর্দান্ত মৌসুম কাটানোর পর নারী বিভাগের পুরস্কারের দৌড়ে রয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার খাদিজা শ, বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড এভা পায়োর এবং লিওঁর মেলচি দুমোরনে।
কীভাবে নির্ধারণ করা হয় ব্যালন ডি’অর জয়ী?
ব্যালন ডি’অর নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো- বিজয়ী কীভাবে নির্বাচন করা হয়?
সমর্থকদের ভোটে নির্ধারিত অন্যান্য পুরস্কারের মতো ব্যালন ডি’অর জয়ী নির্বাচনে সমর্থকেরা ভোট দিতে পারেন না। এর পরিবর্তে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবল সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত একটি প্যানেল বিজয়ী নির্বাচন করে।
পুরুষদের পুরস্কারের জন্য ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের প্রতিনিধিত্বকারী সাংবাদিকদের ভোট দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়। নারী বিভাগের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। তবে সেখানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৫০ দেশের সাংবাদিকেরা ভোট দেন।
প্রতিটি সাংবাদিক ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে ১০ জন খেলোয়াড় নির্বাচন করেন এবং তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ক্রমানুসারে সাজান।
প্রথম স্থানে থাকা খেলোয়াড় পান ১৫ পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা খেলোয়াড় পান ১২ পয়েন্ট এবং তৃতীয় স্থানে থাকা খেলোয়াড় পান ১০ পয়েন্ট। বাকি অবস্থানগুলোর জন্য যথাক্রমে ৮, ৭, ৫, ৪, ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে।
সব ভোট গণনা শেষে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া খেলোয়াড় ব্যালন ডি’অর জেতেন।
২ খেলোয়াড়ের পয়েন্ট সমান হলে প্রথম স্থানে থাকা ভোটের সংখ্যা দিয়ে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়। এরপরও সমতা থাকলে দ্বিতীয় স্থানের ভোট বিবেচনা করা হয়। প্রয়োজনে তৃতীয় স্থানের ভোটসহ পরবর্তী অবস্থানের ভোটও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
ভোট দেওয়ার সময় সাংবাদিকেরা যে বিষয়গুলো বিবেচনা করেন
মজার বিষয় হলো, সবচেয়ে বেশি গোল করা কিংবা সবচেয়ে বেশি ট্রফি জিতলেই যে ব্যালন ডি’অর পাওয়া যাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
বিজয়ী নির্বাচনের জন্য ফ্রান্স ফুটবল তিনটি প্রধান মানদন্ড নির্ধারণ করেছে।
প্রথমেই বিবেচনা করা হয় ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স- পুরো মৌসুমে একজন খেলোয়াড় কতটা প্রভাবশালী ছিলেন এবং দলের সাফল্যে কতটা নির্ণায়ক ভূমিকা রেখেছেন।
এরপর বিবেচনা করা হয় দলীয় অর্জন। সবশেষে দেখা হয় খেলোয়াড়ের শ্রেণি, ক্রীড়াসুলভ আচরণ ও ফেয়ার প্লে।
২০২৬ সালের পুরস্কারের জন্য ভোটের সময়সীমা ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা বিজয়ী নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চলতি ক্লাব মৌসুমের শুরুর দিকের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেওয়া হবে না।
২০২৫ সালে সর্বশেষ ব্যালন ডি’অর বিজয়ী
গত বছর পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন পিএসজির ফরোয়ার্ড ওসমান দেম্বেলে। ফরাসি ক্লাবটির ঐতিহাসিক সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। ওই মৌসুমে পিএসজি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ ঘরোয়া সব শিরোপা জিতেছিল।
নারী বিভাগের পুরস্কার জিতেছিলেন বার্সেলোনার মিডফিল্ডার আইতানা বোনমাতি। টানা তৃতীয়বারের মতো এই সম্মান অর্জন করেন তিনি।
ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল খেলোয়াড় লিওনেল মেসি, যিনি আটবার এই পুরস্কার জিতেছেন। পাঁচটি পুরস্কার নিয়ে তাঁর পরেই রয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
হ্যারি কেন, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিন ইয়ামাল যখন এবারের পুরস্কারের প্রধান দাবিদার, তখন দেখার বিষয়- আজ রাতে লন্ডনে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার পর এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় নতুন করে কার নাম যুক্ত হয়। সূত্র: বাসস
এটিভি/এসটিও
