জঙ্গি হামলা নয়, ভাড়াটে-বাড়িওয়ালার বিবাদ থেকেই গুলি চলেছে! গুয়াহাটির গুলিকাণ্ডে প্রকাশ্যে এল বিস্ফোরক তথ্য। সোমবার রাতে শহরের ব্যস্ত এলাকার হোটেলে আচমকাই গুলি চলে। এক পরিবারের চারজন-সহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের হাতে। জানা গিয়েছে, মূলত ভাড়া নিয়ে বিবাদের জেরেই মর্মান্তিক কাণ্ডটি ঘটেছে।
গুয়াহাটি শহরের প্রাণকেন্দ্র উলুবারি এলাকায় বিলাস ইন নামে ওই হোটেল। সেখানেই সোমবার রাত সাড়ে নটা নাগাদ ওই গোলাগুলি চলে। পরপর গুলির আওয়াজে কেঁপে ওঠে এলাকা। আতঙ্ক ছড়ায় হোটেলে থাকা লোকজন ও স্থানীয়দের মধ্যে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসে স্থানীয় থানার পুলিশ। দ্রুত সেখানে পৌঁছন পুলিশের আধিকারিকরাও। ঘটনাস্থলেই চারজন গুলিতে মারা গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন মহিলা। পরে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন হোটেল মালিক হেলেনা ভরালি। এছাড়াও গুলি লেগে মৃত্যু হয়েছে তাঁর ভাই ভূদেব, পুত্র দেবর্ষি এবং পুত্রবধূ রিনিকির। তাঁদের গাড়িচালক নারায়ণ দাসও মারা গিয়েছেন গুলি লেগে। এছাড়া গুলি লেগে আহত হয়েছেন হোটেলের কেয়ারটেকার সত্যেন্দ্র পাঠক। তবে আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই হোটেলের লিজ নেওয়ার বিষয়ে ঘনকান্তের সঙ্গে ভরালি পরিবারের বিবাদ চলছিল। তারপরই গুলি চলার ঘটনা।
গোটা ঘটনায় অসমের বিজেপি সরকারকে তোপ দেগেছে কংগ্রেস। প্রশ্ন উঠেছে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে। উল্লেখ্য, পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। হোটেলের মধ্যেও চলছে তল্লাশি, তথ্যানুসন্ধান। হোটেল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে বলে খবর। গুলি চলার পরেই হোটেলে থাকা সাধারণ মানুষদের মধ্যে ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই রাস্তায় ছুটে পালান। গুলির আওয়াজে স্থানীয়রাও বাইরে বেরিয়ে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানও সংগ্রহ করছে পুলিশ।
