রাশিয়ার সমন্বয়ে পরিচালিত একটি নাশকতাকারী চক্রের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে রোমানিয়া। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার অভিযোগ, গত সেপ্টেম্বরে ব্রাসভ শহরে রাষ্ট্রীয় অস্ত্র কারখানার কাছে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডের পেছনে এই চক্রের হাত ছিল।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ অক্টােবর) রোমানিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মধ্যে ইউরোপজুড়ে সামরিক ও শিল্প স্থাপনায় নাশকতা চালানোর বৃহত্তর অভিযানের অংশ ছিল ওই অগ্নিকাণ্ড। এসব তৎপরতার উদ্দেশ্য প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করা এবং ইউরোপের নিরাপত্তায় অবদান রাখা দেশগুলোকে ভীত করা। খবর আল জাজিরার।
রোমানিয়ার সংগঠিত অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ ঘটনায় দুই বেলারুশীয় ও এক ইউক্রেনীয় নাগরিক জড়িত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে দুজনকে জার্মানিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা একই ধরনের অপরাধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। তৃতীয় সন্দেহভাজন পোল্যান্ডে পলাতক রয়েছেন।
গোয়েন্দা সংস্থাটির দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এসব নেটওয়ার্কে লোক নিয়োগ করা হয়। প্রথমে অর্থের বিনিময়ে লক্ষ্যবস্তু পর্যবেক্ষণ বা ছবি তোলার মতো কাজ দেওয়া হলেও পরে নাশকতা, অগ্নিসংযোগ এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর কাজে যুক্ত করা হতে পারে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে মস্কোর তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দেশটি অতীতেও এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রোমানিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের ৬০০ কিলোমিটারের বেশি সীমান্ত রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকুসর দান অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেনকে সমর্থনকারী দেশগুলোকে অস্থিতিশীল করতে রাশিয়া সাইবার হামলা, অপতথ্য ছড়ানো ও নাশকতাসহ বিভিন্ন ধরনের ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ চালাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা স্থাপনায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোমানিয়ার অভিযোগ, এসব ঘটনা ইউরোপের সামরিক উৎপাদনব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে চালানো বৃহত্তর নাশকতা অভিযানের অংশ হতে পারে।
