বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশসংক্রান্ত নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন আদালত। ফলে আপাতত দেশ ছাড়তে হচ্ছে না এই অভিনেতাকে। আগামী ২ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে আদালত।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইমরান খান একজন মার্কিন নাগরিক এবং ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) যে নোটিশ জারি করেছিল, সেটিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ অক্টোবর দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির আয়োজিত একটি বিক্ষোভের সমর্থনে এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ইমরান খানের বিরুদ্ধে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং নির্বাচন কমিশনের একতরফা কার্যক্রমের অভিযোগ তুলে ওই বিক্ষোভ আয়োজন করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়া পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। তার দাবি, মার্কিন নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ইমরান খান বিক্ষোভে অংশ নিয়ে নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। পরে অভিযোগটি এফআরআরওর কাছে পাঠানো হয়। এর ভিত্তিতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর অধীনে অভিনেতাকে ভারত ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়।
আইনটির ৭ ধারায় ভারত সরকারকে বিদেশি নাগরিকদের দেশে প্রবেশ, অবস্থান, প্রস্থান ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সীমিত বা নিষিদ্ধ করার নির্দেশ জারির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
গত ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে ইমরান খান দাবি করেন, তিনি কোনো জনসমাবেশে অংশ নেননি এবং বিক্ষোভের আয়োজকদের সঙ্গেও তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ কারণে তার বিরুদ্ধে জারি করা নোটিশকে বেআইনি, স্বেচ্ছাচারী ও অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের আবেদন জানান তিনি।
আদালতে আবেদন করার পর এফআরআরওর পক্ষ থেকে ইমরান খানকে আরেকটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এতে জানতে চাওয়া হয়, কেন তার ওসিআই মর্যাদা বাতিল করা হবে না।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) শুনানিতে ইমরান খানের আইনজীবী ভেঙ্কটেশ আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার সময়সীমার বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। পরে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অনিল সিং আশ্বাস দেন, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
এরপর প্রধান বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠি ও বিচারপতি অদ্বৈত শেঠনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আগামী ২ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ইমরান খান, তার সঙ্গী লেখা ওয়াশিংটন এবং বোন জেন মারি খান মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে আয়োজিত একটি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। এ সময় পুলিশ তাদের সাময়িকভাবে আটক করে। পরে প্রিজন ভ্যানের ভেতর থেকে নিজের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে অভিনেতা লিখেছিলেন, ‘দেখা যাচ্ছে, আমি ড্রাইভে যাচ্ছি।’
বিক্ষোভস্থলে ইমরান খান বলেছিলেন, তার কোনো ব্যক্তিগত দাবি নেই। একজন নাগরিক এবং শহরটির সাধারণ বাসিন্দা হিসেবে তিনি সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। মানুষের চলাফেরার স্বাধীনতা কেন খর্ব করা হচ্ছে এবং তাদের কণ্ঠস্বর কেন দমিয়ে রাখা হচ্ছে, তা জানতেই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন বলে জানান এই অভিনেতা।
