কিশোরীকে মাদক খাইয়ে হোটেলের ঘরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ। শুধু তাই নয়, পরে ওই কিশোরী ও তার পরিবারকে সেই নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেলও করা হয়েছে! পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে ওই নির্যাতিতার পরিবার। ওই নাবালিকার বাড়ি কলকাতার বাগুইআটিতে। হুগলির পোলবার একটি হোটেলে ওই নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বাগুইআটির বাসিন্দা ওই কিশোরী শনিবার দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ এক বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে বেরিয়েছিল। রাত পর্যন্ত সে বাড়ি ফিরছে না দেখে তার মা ফোন করেছিলেন। সেসময় নাবালিকা জানিয়েছিল, বান্ধবীর সঙ্গে বারাকপুরে গিয়েছে। বাড়ি ফিরতে রাত প্রায় ১১টা হবে। সেদিন রাত সাড়ে ১১টা বেজে গেলেও মেয়ে ফিরছে না দেখে ফের তিনি মেয়েকে ফোন করেছিলেন।
অভিযোগ, তখনই একটি অপরিচিত নম্বর থেকে এক ব্যক্তি ফোন ধরেন। বলা হয়, রাস্তায় নাবালিকাকে কাঁদতে দেখে তিনি তাকে নিজের ফোন ব্যবহার করতে দিয়েছেন। এরপর রাত ১২টার পর নাবালিকা তার মাকে মেসেজ করে জানায়, সে বিপদের মধ্যে রয়েছে! নাবালিকার বান্ধবী তাকে অন্য একজনের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছে বলেও জানানো হয়েছিল। অভিযোগ, এক যুবক নাবালিকার মাকে ফোন করে আশ্বস্ত করেছিলেন, মেয়ে নিরাপদে রয়েছে। পরে সেই যুবক আরও দাবি করেছিলেন, নাবালিকা একটি গাড়িতে বাড়ি ফিরছে।
সেই রাতে আর বাড়ি ফেরেনি ওই কিশোরী। পরদিন, রবিবার প্রায় বেলা ১১টা নাগাদ বাড়ি ফিরেছিল নাবালিকা। অভিযোগ, পোলবার একটি হোটেলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই জলের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে জোর করে খাওয়ানো হয়! তার উপর শারীরিক নির্যাতনও চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, সেই নির্যাতনের ঘটনা মোবাইলে ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়েছিল। নির্যাতনের পরে কিশোরীকে একটি ওষুধও খাওয়ানো হয়েছিল!
নাবালিকা বাড়ি ফিরে সব কথা পরিবারকে জানিয়েছিল। অভিযোগ, নাবালিকার বান্ধবী, সাথীরা ভিডিও দেখিয়ে পরিবারকে হুমকি দেয়। হুমকির কারণে পুলিশের কাছে যেতে ভয় পেয়েছিলেন কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা। শেষপর্যন্ত আজ, সোমবার বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে নাবালিকার পরিবার। ঘটনার খবর পেয়ে পোলবা থানার পুলিশও তদন্ত শুরু করেছে। তবে ঘটনা নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও বক্তব্য রাখা হয়নি।
