রোহিত হোসেন রনি ও শামিম আহমেদ টিটো:
যশোর সদর উপজেলার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খড়কি কাশার দিঘি এলাকায় বিএনপি সমর্থক আব্দুল বাছিত মোল্যার বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে বাড়ির নিচতলার জানালার কাছে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একটি ঘরের জানালা ভেঙে যায় এবং বাড়ির ভেতরে ও আশপাশে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। আব্দুল বাছিতের দাবি, এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়ায় তাঁকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আব্দুল বাছিত মোল্যা খাদিমুল ইসলামের ছেলে। তিনি জানান, গভীর রাতে বাড়ির নিচতলার জানালার কাছে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনে নিচে নেমে আসেন। এ সময় বাড়ির চারপাশে ধোঁয়া দেখতে পান। ঘরের ভেতরেও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছিল। বিস্ফোরণে একটি ঘরের জানালা ভেঙে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে আশপাশে ধোঁয়া দেখতে পান।
আব্দুল বাছিতের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকার মাদক ব্যবসা, মাদকসেবন, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়টি পয়েন্টে সভা করা হয়েছে। আরও তিন থেকে চারটি স্থানে সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর সন্দেহ, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট কেউ তাঁকে ভয়ভীতি দেখানোর উদ্দেশ্যে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি জানান, যশোর শহরকে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা থেকে মুক্ত রাখতে তাঁরা সম্মিলিতভাবে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ জন্য ওয়ার্ডের বিভিন্ন মোড়ে একাধিক সভাও করেছেন। তাঁদের ধারণা, এ উদ্যোগ বন্ধ করতে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। তবে বিস্ফোরণের সঙ্গে কমিটি গঠনের উদ্যোগের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তাঁরা পিছিয়ে যাবেন না; মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি গঠন করে তাঁদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবীর হোসেন জানান, রাত দেড়টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ আলামত সংগ্রহ করেছে এবং ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। বিস্ফোরণে কেউ হতাহত হননি বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং কমিটি গঠনের উদ্যোগের সঙ্গে ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
