কুড়িগ্রামের কাঁঠালবাড়ীতে বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ছয় বছরের শিশু মনি, তার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা মা আদুরী ও গর্ভের সন্তান নিহত হয়েছেন; আহত বাবা দুলাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কুড়িগ্রামের কাঁঠালবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ছয় বছরের শিশু মনি, তার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা মা আদুরী (২৩) ও মায়ের গর্ভে থাকা অনাগত পুত্রসন্তানের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্ত্রী, আদরের মেয়ে ও অনাগত সন্তানকে হারিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবা দুলাল। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ত্রিমোহনী এলাকায় তাঁদের স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে কাঁঠালবাড়ী এলাকায় বিদ্যা কানন নামের একটি বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকাগামী পিংকি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু মনি মারা যায়। আহত হন অন্তত সাতজন।
আহতদের উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মনির মা আদুরীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকেরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গর্ভের সন্তানসহ তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার তিন দিন আগে উলিপুর উপজেলায় দুর্গাপূজার আনন্দ শেষে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ত্রিমোহনী বাজার এলাকার হাড়িপাড়ার বাসিন্দা ঢোলবাদক দুলাল (২৬) তাঁর স্ত্রী আদুরী ও মেয়ে মনিকে নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন। আদুরী ছিলেন তাঁর বাবার বাড়িতে, আর মনি গিয়েছিল লালমনিরহাটের কুলাঘাট এলাকায় নানার বাড়িতে। তিন দিন পর সোমবার রাতে অটোরিকশায় করে একসঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে কাঁঠালবাড়ীতে দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা।
নিহত শিশু মনি প্রথম শ্রেণিতে পড়ত। যে মেয়েটি বাড়ি ফিরে আবার খেলবে, হাসবে—সেই মেয়েকে আর কখনো দেখতে পাবেন না বাবা দুলাল। একই সঙ্গে স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত তিনি। দুর্ঘটনায় দুলাল নিজেও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় সড়কে বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাঁদের মতে, অসতর্কতা ও বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিনিয়ত প্রাণহানি ঘটছে। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করে পরিবার ও সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠছেন।
নিহত দুলালের বড় ভাই নগেন মালি খলিলগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের দপ্তরি ছিলেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
