সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো, সেবাপ্রত্যাশীদের কথা ধৈর্যসহকারে শোনা এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানে আন্তরিক উদ্যোগ—এসব গুণ একজন সরকারি কর্মকর্তাকে মানুষের কাছে সম্মানিত করে তোলে। এমনই জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে সিলেট মহানগর রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রানী দেবের কর্মতৎপরতা সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
গত ৩ আগস্ট থেকে তিনি সিলেট মহানগর রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সাধারণ মানুষের ভূমিসংক্রান্ত সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনা, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং বিধিবিধানের আলোকে দ্রুত সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি আন্তরিকতার পরিচয় দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
পলি রানী দেবের সঙ্গে কথা বলতে আসা ব্যক্তিরা জানান, তিনি তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমস্যার ধরন বুঝে সমাধানের উপায় বাতলে দেন। তাঁর ধৈর্যশীল আচরণ, সৌজন্যবোধ ও সহযোগিতামূলক মনোভাব ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করছে।
এর আগে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানেও তিনি সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে। সরকারি দায়িত্ব পালনে পেশাদারত্বের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখাই তাঁর কর্মধারার অন্যতম ইতিবাচক দিক বলে মনে করছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
পলি রানী দেবের আন্তরিকতা ও দ্রুত সেবা প্রদানের একটি উদাহরণ তুলে ধরেছেন লন্ডনপ্রবাসী মুমিত আহমদ চৌধুরী। তিনি জানান, নিজের একটি জমি বিক্রির জন্য তাঁর নামজারি প্রয়োজন ছিল। কিন্তু হাতে সময় খুব কম থাকায় বিষয়টি নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তাঁর লন্ডনে ফিরে যাওয়ার কথা থাকায় দ্রুত নামজারি সম্পন্ন করা তাঁর জন্য জরুরি হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রানী দেবকে জানালে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মাত্র দুই দিনের মধ্যে নামজারির কাজ সম্পন্ন করে দেন বলে জানান মুমিত আহমদ চৌধুরী। তাঁর মতে, স্বল্প সময়ের মধ্যে এ সেবা পাওয়ায় তিনি বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছেন।
মুমিত আহমদ চৌধুরী বলেন, ভূমিসংক্রান্ত কাজ নিয়ে সরকারি অফিসে এলে অনেক সময় প্রক্রিয়া ও সময় নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে। কিন্তু এখানে তিনি সহযোগিতামূলক আচরণ পেয়েছেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রানী দেবের পাশাপাশি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের ব্যবহারেও তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। বিশেষ করে কানুনগো মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সার্টিফিকেট পেশকার মো. শাকিল আহমদের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা তাঁর কাজ সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেছেন।
নগরীর আম্বরখানা এলাকা থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশী সাজ্জাদ আলীও পলি রানী দেবের আচরণ ও সহযোগিতায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, পারিবারিক জমিজমা নিয়ে একটি জটিল সমস্যা সমাধানের আশায় তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে যান। সেখানে পলি রানী দেব তাঁর বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমস্যাটি সমাধানের সম্ভাব্য পথ সম্পর্কে আন্তরিকভাবে দিকনির্দেশনা দেন।
সাজ্জাদ আলী বলেন, ভূমিসংক্রান্ত জটিলতায় সাধারণ মানুষ অনেক সময় সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে সমস্যায় পড়েন। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যদি মনোযোগ দিয়ে কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন, তাহলে মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসে। তিনি পলি রানী দেবের আচরণে সেই সহযোগিতার মনোভাব পেয়েছেন বলে জানান।
অফিসের স্বচ্ছতা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাজ্জাদ আলী বলেন, তাঁর নিজের অভিজ্ঞতায় সেখানে টাকা-পয়সার কোনো অনিয়ম বা লেনদেন তাঁর চোখে পড়েনি। তিনি মনে করেন, ভূমি প্রশাসনের কর্মকর্তারা যদি সততা, আন্তরিকতা ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ আরও সহজে সরকারি সেবা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের অন্যান্য ভূমি অফিসের কর্মকর্তারাও যদি পলি রানী দেবের মতো দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব আচরণ অনুসরণ করেন, তাহলে ভূমিসেবা নিয়ে মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রানী দেবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা প্রতিটি মানুষই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সহজে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে পারেন, সেটিই আমার প্রধান লক্ষ্য। আমি সবসময় সেবাপ্রত্যাশীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার এবং প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি। সরকারি দায়িত্ব পালনে সততা, আন্তরিকতা ও জনসেবার মানসিকতাকে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ভূমিসংক্রান্ত সেবা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। নামজারি, জমির রেকর্ড, মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা অন্যান্য ভূমিসেবা গ্রহণ করতে গিয়ে অনেককে নানা ধরনের বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয়। এ পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা, স্বচ্ছতা, সময়ানুবর্তিতা ও সঠিক দিকনির্দেশনা সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সিলেট মহানগর রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রানী দেবের প্রতি সেবাপ্রত্যাশীদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা সেই প্রত্যাশাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ভূমিসেবার সামগ্রিক মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি, জবাবদিহি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা প্রদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সেবাপ্রত্যাশীদের প্রত্যাশা, পলি রানী দেবের নেতৃত্বে সিলেট মহানগর রাজস্ব সার্কেলে সাধারণ মানুষের জন্য সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা প্রদানের এ ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে। সততা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে সরকারি দপ্তরগুলো পরিচালিত হলে জনগণের আস্থা যেমন সুদৃঢ় হবে, তেমনি প্রতিষ্ঠিত হবে জনবান্ধব প্রশাসনের দৃষ্টান্ত।
