এক গৃহবধূর শ্লীলতাহানির অভিযোগে কাটোয়া থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করল প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের ভাইপোকে। পুলিশ জানায় ধৃতের নাম দেবজিৎ চট্টোপাধ্যায় ওরফে লাল্টু। এদিন সোমবার সকালে কাটোয়া থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতকে এদিন কাটোয়া মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাঁকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী মহিলা কাটোয়া শহর এলাকার বাসিন্দা। যদিও তিনি বর্তমানে মঙ্গলকোট এলাকার একটি গ্রামে বাপেরবাড়িতে থাকেন। গৃহবধূর স্বামী বর্তমানে একটি মামলায় জেলবন্দি রয়েছেন। বধূ জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটেছিল এবছর মার্চ মাসের প্রথমদিকে। তাঁর এক আত্মীয়ার কাটোয়া শহরের বাগানেপাড়ায় বিয়ে হয়েছে। ওই আত্মীয়ার অসুস্থতার খবর পেয়ে মঙ্গলকোটে বাপেরবাড়ি থেকে সেদিন বাগানেপাড়ায় এসেছিলেন।
নির্যাতিতার দাবি, “আমি আমার আত্মীয়াকে দেখতে এসেছিলাম। ওদিন লাল্টু চট্টোপাধ্যায়, দিগন্ত পাল, বাবুলাল শেখ, সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায়, সুদীপ্ত চক্রবর্তী , কালি চট্টরাজ সহ কয়েকজন আমার আত্মীয়ার বাড়িতে আসে । আমাকে হুমকি ও গালিগালাজ শুরু করে। দাবি করে এখনই ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে। আমি দিতে অপারগ বলতেই ওরা আমার চুলের মুঠি ধরে বেধড়ক মার শুরু করে। শ্লীলতাহানি করে। আমার ওই আত্মীয়া আমাকে রক্ষা করতে গেলে বাড়িতে ভাঙচুর শুরু করে। এরপর আমার আত্মীয়া ও আমি নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে ৭০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হই।”
গত ২ মার্চের ওই ঘটনার কথা উল্লেখ গত শনিবার ওই বধূ কাটোয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর ভিত্তিতে পুলিশ লাল্টু চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন যদিও বর্তমানে জেলে রয়েছেন। এদিন সকালে কাটোয়ার বারোয়ারিতলা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাটোয়া থানার আইসি সঞ্চয়ন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন ধৃতের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানির ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
