কক্সবাজারের টেকনাফে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের লক্ষ্যে পরিচালিত এক বিশেষ যৌথ অভিযানে কুখ্যাত মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতাসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধে ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটা থেকে রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলার এপিবিএনের আওতাধীন বিভিন্ন ক্যাম্প এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
১৬ এপিবিএন টেকনাফের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ কাউছার সিকদারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে জেলা পুলিশ, জেলা প্রশাসন, বিজিবি, কোস্টগার্ড, এসআরবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ব্যাটালিয়ন আনসারের মোট ১০৫ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন।
অভিযানের বিস্তারিত:
-
মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার: গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে টেকনাফের মানবপাচার সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান হোতা একাধিক মামলার আসামি মো. কবির ওরফে ডা. কবির (৬৫) এবং তাঁর প্রধান সহযোগী মো. ইলিয়াস ওরফে ইলিয়াস মেম্বারকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়। তারা উভয়ই টেকনাফের ২৪ নম্বর লেদা ক্যাম্পের বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়া পাচারের সময় আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ডুবে যাওয়া বোটটি তারা পাঠিয়ছিলেন।
-
হত্যা ও অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার: পৃথক অভিযানে হত্যা ও অস্ত্র মামলার তিনটি পরোয়ানাভুক্ত সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবু তৈয়বকে (৩৬) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের বাসিন্দা। একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চার বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের রায় রয়েছে।
-
মোবাইল কোর্টে সাজা: অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সরকারি আদেশ অমান্য, মাদক সেবন, বাবা-মাকে মারধর ও ক্যাম্পে অবৈধ অনুপ্রবেশসহ বিভিন্ন অপরাধে ১০ জনকে সাজা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ৪ জনকে ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এছাড়া রিকল মূলে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জেএইচআর
