দেশের পরিবহন ব্যবস্থা বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়, যা বিশ্বের অধিকাংশ দেশে হয় না; নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটিকে সমস্যা মনে করছেন সড়ক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ শামসুল হক।
পরিবহন ব্যবস্থায় সমন্বিত উদ্যোগ নেবার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের এই অধ্যাপক বলেন, “আমাদের দেশের সমস্যা হল আমাদের দেশের পরিবহন ব্যবস্থা বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়, যা বিশ্বের অধিকাংশ দেশে হয় না।
“কোথাও কোথাও পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে ভূমি ব্যবস্থাপনাকেও যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় তৈরি হয়।”
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিরাপদ সড়ক চাই-নিসচা আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বক্তব্য রাখছিলেন।
‘সড়ক নিরাপত্তা আইন: বর্তমান প্রেক্ষিত ও সরকারের অঙ্গীকার’ শীর্ষক এ আলোচনায় বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক শামসুল হক বলেন, “সড়ক, রেল, নৌ ও বিমান পরিবহনগুলো আলাদা থাকলে পরস্পরের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে পারে।
“তাই এই পরিবহনগুলো এক করতে হবে, এর সঙ্গে ভুমি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিয়েও সমন্বিত পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।”
পরিবহন ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় আনার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আইন তৈরি করতে পারি, আইন প্রয়োগ বাড়াতে পারি, চালকদের প্রশিক্ষণ দিতে পারি, জনসচেতনতা বাড়াতে পারি। কিন্তু এর পাশিপাশি যদি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় না থাকে তবে কাঙ্খিত ফলাফল পাওয়া কঠিন।”
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা আইন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব এবং আইন বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ।
তিনি বলেন, “আজকের এই বৈঠকের মূল বিষয় হল নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো, নিরাপদ যানবাহন, নিরাপদ সড়ক ব্যবহার এবং দুর্ঘটনা পরবর্তী জরুরি সেবা ও সহায়তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সমন্বিত জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা।”
নিসচা দীর্ঘদিন ধরে একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপদ সড়কের দাবি জানিয়ে আসছে তুলে ধরে লিটন এরশাদ বলেন, “বাংলাদেশের সামনে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এসেছে। সময় এসেছে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা, নীতি, কর্মসূচি ও প্রকল্পগুলোকে একটি সমন্বিত জাতীয় কাঠামোর মধ্যে এনে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়ার।”
বৈঠকে নিসচার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের বক্তব্য ভার্চুয়ালি তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয় বলেন, “গত ৩৩ বছর ধরে নিসচা নিরাপত্তা বিয়য়ে জনসচেতনতা তৈরি, দুর্ঘটনা প্রতিরোধের দাবি এবং মাঠপর্যায়ে অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কাজ করে আসছে।”
এরই ধারাবাহিকতায় নিরাপদ সড়ক চাই স্লোগান ধারণ করে ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ বাস্তবায়িত হয়, বলেন তিনি।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে সড়ক বিশেষজ্ঞ তাইফুর রহমান, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ-আইইউবির সহযোগী অধ্যাপক কামরান উল বাসেত ও সাবেক সচিব শরীফুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
