ভরা সংবাদ সম্মেলন কক্ষে ঢুকে নাজমুল হোসেন শান্ত বললেন, 'টেস্টের জন্য এতো মানুষ?' সাংবাদিকদের একজন পাল্টা বললেন, 'টেস্টই তো এখন সবার আগ্রহে।' বেশ তৃপ্তির হাসিতে তাতে সায় দিলেন টেস্ট অধিনায়ক।
রঙিন পোশাকে সাম্প্রতিক সময়ে বিবর্ণ বাংলাদেশ টেস্টে পার করছে দারুণ সময়। টেস্ট দলের সামনে এখন বড় স্বপ্নের হাতছানি—বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা বেশ ভালোভাবেই টিকে আছে। এমন সমীকরণ দলের জন্য প্রেরণার উৎস হলেও অত দূরে তাকাতে রাজি নন অধিনায়ক। শান্ত সাফ জানিয়ে দিলেন, তাদের সব নজর এখন কেবল বুধবার শুরু হতে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে।
ডব্লিউটিসির পয়েন্ট টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের সামনে সমীকরণটা স্পষ্ট—বাকি থাকা ৬ টেস্টের চারটিতে জয় এবং অন্তত একটি ড্র এনে দিতে পারে ইতিহাস গড়ার সুযোগ।
সংবাদ সম্মেলনে কী হলে কী হতে পারে—এমন সমীকরণ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে শান্ত বলেন, ‘এটা আমার কাছে চাপ না, অনুপ্রেরণাদায়ক। আমার মনে হয় যে টেস্ট ক্রিকেটে এরকম সমীকরণের অনেক কিছু আসছে, এটা ইন্সপায়ারিং। আমরা যখনই প্র্যাকটিস শুরু করেছি বা সিরিজটা নিয়ে কথা বলেছি, আমরা চিন্তা করেছি গত কয়েক বছর ধরে কীভাবে টেস্ট ক্রিকেটটা খেলছি। আমরা বাড়তি কোনো কিছু করতে চাই না, আমাদের প্রক্রিয়াটাই অনুসরণ করতে চাই। আমরা যে জিনিসটা পারি, সেটাই ১০০ পার্সেন্ট দিয়ে করতে চাই।'
কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে স্বপ্নের আকাশ ছুঁতে গিয়ে বাস্তবতার জমিন ছাড়তে চান না শান্ত। দীর্ঘমেয়াদি হিসাব না কষে ছোট ছোট ধাপে এগোতে চান তিনি,
‘সত্যি বলতে, একদমই ওভাবে ভাবছি না (টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল)। আমি শুধু এই টেস্ট ম্যাচটি নিয়ে ভাবছি, কেবল এই টেস্ট ম্যাচ—এমনকি সিরিজের দুই টেস্ট নিয়ে একসঙ্গেও ভাবছি না। একটি দল হিসেবে আমরা সবসময় চিন্তা করি কীভাবে এই ম্যাচটি বা এই সিরিজটি খেলব। কারণ আমরা যদি এই ধরনের ম্যাচ বা সিরিজ জিততে পারি, তাহলে ওই লক্ষ্যগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অর্জিত হবে। তাই দল হিসেবে আমরা ছোট ছোট লক্ষ্য নিয়ে ভাবছি, যা গত দু-এক বছর ধরে আমরা করে আসছি। আমি অনেক দূরের কথা ভাবছি না এবং এটাই মাঠে আমাদের ভালো খেলতে সাহায্য করে।’
