তৃণমূলের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়াফুল’ কার দখলে থাকবে তার পক্ষে কমিশনে প্রয়োজনীয় নথি এবং হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানাল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। সোমবার তারা শীর্ষ আদালতের কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়েছে। তা মঞ্জুর হয়েছে।
অতিরিক্ত সময় চাওয়ার কারণ হিসেবে ঋতব্রত শিবিরের বক্তব্য, দুর্গাপুজোর ছুটির কারণে ১৬ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত ১১ দিনের একটি বড় অংশে সরকারি দফতর বন্ধ ছিল। উৎসবের সময় নোটারি পরিষেবা না পাওয়ায় হলফনামা তৈরি ও নোটারাইজ করতে অসুবিধা হয়েছে। দলের সদস্য ও পদাধিকারীদের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক হলফনামা সংগ্রহ করতে হবে। হলফনামা তৈরি, স্বাক্ষর, নোটারাইজেশন ও নথি একত্রিত করার জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হোক।
সুপ্রিম কোর্ট দু’শিবিরকেই কমিশনে নথি জমা দিতে ২০ দিন বাড়তি সময় মঞ্জুর করেছে। চলতি সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে ওই মামলার শুনানির সম্ভাবনা। প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত চার সপ্তাহের সময়সীমা সোমবারই (২৬ অক্টোবর) শেষ হয়েছে। সে দিনই ঋতব্রত শিবির নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় নথি ও হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে নতুন করে আবেদন করল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক, জানুয়ারি মাসের মধ্যেই তৃণমূলের নাম এবং প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হয়ে যাবে। যার অর্থ, আসন্ন পুরভোট কিংবা এই সময়ের মধ্যে হওয়া অন্য নির্বাচনগুলিতে অস্থায়ী প্রতীক নিয়েই লড়তে হবে মমতা তৃণমূল এবং ঋতব্রতদের গণতান্ত্রিক তৃণমূলকে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর এই মামলার আগের শুনানিতে মমতা তৃণমূলের আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে আদালতে আর্জি জানিয়েছিলেন। কমিশনের কাছে দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে কি না, জানতে চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। মমতা তৃণমূল তাতে সম্মতিসূচক উত্তর দিলেও ঋতব্রত তৃণমূলের তরফে আইনজীবী মুকুল রোহতগি কমিশনের কাছে বক্তব্য জানানোর জন্য ছ’সপ্তাহ সময় চান। শীর্ষ আদালত অবশ্য জানায়, চার সপ্তাহ অর্থাৎ এক মাসের মধ্যে দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে কমিশনকে। তার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিন মাস সময় পাবে কমিশন।
মমতা এবং ঋতব্রত শিবিরের দ্বন্দ্বের মধ্যেই গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে জানানো হয়, আপাতত দলের নাম হিসেবে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক জোড়াফুল ‘ফ্রিজ়’ করছে তারা। কমিশন জানিয়ে দেয়, তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ আপাতত তাদের সিন্দুকে জমা রাখা হচ্ছে। দল কার, আসল তৃণমূল কে, দলের তহবিলের মালিকানা কোন গোষ্ঠীর— ইত্যাদি চূড়ান্ত হওয়ার পরেই সেই সিন্দুকের তালা খোলা হবে। ৬ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের আগে শুক্রবার দুই শিবিরের অন্তর্বর্তিকালীন নাম এবং প্রতীক চূড়ান্ত করেছিল কমিশন। মমতা শিবিরের নাম হয় ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’। তারা পায় ‘ফুটবল পায়ে ফুটবলার’ প্রতীক। ঋতব্রত তৃণমূলের নাম হয় ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’। নির্বাচনী প্রতীক হয়েছে ‘খাম’।
