জাপানে বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের সংখ্যা গত বছর টানা তৃতীয়বারের মতো রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
গত মাসে জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত জনসংখ্যাতাত্ত্বিক তথ্যের ভিত্তিতে, জাপানি নাগরিকদের সন্তানদের সাথে দেশটিতে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের তুলনা করেছে এনএইচকে।
২০২৫ সালে জাপানি নাগরিকদের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ছিল ৬,৭১,২৭০ জন, যা একটি রেকর্ড সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, বিদেশি বসবাসকারীদের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ছিল ২৩,০১৫ জন, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ।
সর্বাধিক ৪,১২৪ জন বিদেশি শিশুর জন্ম দিয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে টোকিও। এরপরেই ২,৪৭১ জন বিদেশি শিশুর জন্ম দিয়ে আইচি জেলা এবং পরবর্তীতে ২,১৫৩ জন বিদেশি শিশুর জন্ম দিয়ে সাইতামা জেলা অবস্থান করছে।
এনএইচকে সরকার কর্তৃক প্রকাশিত ৮১৫টি শহর এবং ওয়ার্ডে নিবন্ধিত নবজাতকের সংখ্যাও খতিয়ে দেখেছে। ২০১৯ সালে, মাত্র ১০টি পৌরসভায় মোট সংখ্যার ১০ শতাংশের বেশি বিদেশি শিশু নথিভুক্ত হয়েছিল। তবে, গত বছর এই পৌরসভার সংখ্যা তিনগুণ বেড়ে ৩১-এ দাঁড়িয়েছে।
সারাদেশে, মোট জন্মের মধ্যে বিদেশি শিশুর সংখ্যা ৩ শতাংশের সামান্য বেশি। তবে কম জন্মহার এবং তীব্র শ্রমিক ঘাটতি রয়েছে এমন কিছু এলাকায় এই অনুপাত ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, শিযুওকা জেলার আতামি শহরে এই হার ২৪.৬ শতাংশ, ইবারাকি জেলার জোসো শহরে ২২.৫ শতাংশ এবং সাইতামা জেলার ওয়ারাবি শহরে ২১.২ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো, এখন আরও বেশি সংখ্যক বিদেশি নাগরিক জাপানে বসবাসের অনুমতি নিয়ে কাজ করছেন, যা তাদের পরিবারকেও জাপানে নিয়ে আসার সুযোগ করে দিয়েছে।
মেইজো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কোন্দো আৎসুশি বলেন যে, জাপানের জনসংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ায় সেখানে বেড়ে ওঠা বিদেশি শিশুরা স্থানীয় সমাজের স্তম্ভ হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন যেখানে বিদেশি ও জাপানি উভয় ধরনের শিশুই বেড়ে উঠতে এবং বিকশিত হতে পারবে।