নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দেশের একটি বিস্তৃত অঞ্চলে আকস্মিক বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে একটার দিকে রাজধানীর পূর্বাঞ্চলসহ বন্দরনগরী চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে সচিবালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানেও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে এই বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিবি) জানিয়েছে, ঢাকার পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা (ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন, মতিঝিল প্রভৃতি) এবং চট্টগ্রামের কয়েকটি অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এর পাশাপাশি মগবাজার, বনশ্রী ও খিলগাঁও অঞ্চলেও বিদ্যুৎ নেই। তাৎক্ষণিকভাবে কারিগরি ত্রুটির সঠিক উৎস জানা না গেলেও ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনর্দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পাওয়ার গ্রিডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংস্থার প্রকৌশলীরা পর্যায়ক্রমে লাইন পুনঃস্থাপনের কাজ চালাচ্ছেন। দেশের জাতীয় গ্রিডের মূল কার্যক্রম জাতীয় লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। তবে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য প্রান্তে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরো মাত্রায় সচল ও স্বাভাবিক রয়েছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে। প্রায় আধঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ না পেয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং পরবর্তীতে আজকের মতো বিচারিক অধিবেশন না বসার সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্টরা। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম এক প্রতিক্রিয়া জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ট্রাইব্যুনালের বিচারকার্য এভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা আগে কখনো ঘটেছে বলে তাঁর মনে পড়ছে না।
এদিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা যায়, আজ বেলা ১১টার দিকে দেশব্যাপী বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৬০১ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ওই সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট, অর্থাৎ প্রায় ২৯৮ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল। তবে এই উৎপাদন ঘাটতির সাথে গ্রিড বিপর্যয়ের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
বিপর্যয়ের সঠিক উৎস ও কারণ সম্পর্কে বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিশেষজ্ঞরা জানান, জাতীয় গ্রিডে বড় ধরণের ত্রুটি দেখা দিলে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থবিরতা দেখা দেয়, যা পুরোপুরি সামাল দিয়ে বিদ্যুৎ স্বাভাবিক করতে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, দেশে এর আগেও জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটেছিল। ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর বেলা ২টা ৫ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে প্রথম ট্রিপিং দেখা দেয়, যার ফলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের অধিকাংশ এলাকা একযোগে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল।
সেসময় পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন অঞ্চলে তিন থেকে আট ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়। এরও আগে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর জাতীয় গ্রিডের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর পুরো দেশ প্রায় ১২ ঘণ্টা অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল।
এ জাতীয় আরো খবর..
