৫ ঘণ্টা আগে
সর্বশেষ আপডেট: ৫ ঘণ্টা আগে
স্পোর্টস ডেস্ক
ছবি: রয়টার্স
নিষেধাজ্ঞার কারণে ছিলেন না ভিনিসিউস জুনিয়র, অসুস্থতায় ম্যাচের ঠিক আগে ছিটকে যান থিবো কোর্তোয়া। দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের অনুপস্থিতি আর পারফরম্যান্সের অধারাবাহিকতা মিলিয়ে প্রতিপক্ষের মাঠে নামার আগে ব্যাকফুটে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে মাঠের লড়াইয়ে হিসাব বদলে দিল জোসে মরিনহোর দল। নান্দনিক ফুটবলের পসরায় এল ক্ল্যাসিকো মাতালো তারা। কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলে ন্যু ক্যাম্প থেকে জয় নিয়ে ফিরল মাদ্রিদ জায়ান্টরা।
বার্সেলোনার মাঠে স্প্যানিশ লা লিগার ম্যাচ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে রিয়াল। এই জয়ে লা লিগার শীর্ষ দল বার্সার সঙ্গে ব্যবধান তিনে কমিয়ে আনল মাদ্রিদের ক্লাবটি। রোববার রাতের ম্যাচে ফরাসি ফরোয়ার্ড এমবাপে প্রথমার্ধে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর শেষ দিকে জয়সূচক গোলটি করেন। মাঝের সময়ে রাফিনিয়ার গোলে সমতায় ফিরেছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। চলতি মৌসুমে ঘরোয়া ফুটবলে এটাই বার্সেলোনার প্রথম হার।
পয়েন্ট তালিকায় এখন তিন নম্বরে আছে রিয়াল। আটলেতিকো মাদ্রিদ দুইয়ে আর শীর্ষে হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা। প্রথম নয় ম্যাচের সব কটিতে জেতা বার্সার জন্য শেষ সপ্তাহটা কাটল বেশ হতাশায়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির কাছে হারের পর এবার ক্ল্যাসিকোতেও হারল তারা।ফ্লিক আসার পর আগের সাতটি এল ক্ল্যাসিকোর ছয়টিতেই জিতেছিল বার্সেলোনা। তবে মরিনহোর কৌশলের সামনে এবার আর সুবিধা করতে পারেনি কাতালানরা। নিষিদ্ধ হওয়ায় এ ম্যাচে ছিলেন না ভিনিসিউস জুনিয়র। তাকে ছাড়াই সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পঞ্চম জয় তুলে নিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিল পর্তুগিজ কোচের দল।
ম্যাচের শুরুটা ছিল বেশ সমানে সমান, সুযোগও তৈরি হচ্ছিল কম। বার্সা ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি দুবার এমবাপেকে দারুণভাবে আটকে দেন। অন্যদিকে তরুণ উইঙ্গার লামিন ইয়ামালকে সামলাতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছিল রিয়ালের মার্ক কুকুরেয়াকে।
নিউ ক্যাসল থেকে আসা অ্যান্থনি গর্ডন ব্যাকহিলে বল বাড়িয়েছিলেন রাফিনিয়ার দিকে, তবে তার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৩০ মিনিটের আগেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তরুণ ডিফেন্ডার জাভি এস্পার্ত, তার জায়গায় নামেন আলেহান্দ্রো বালদে।
ফ্লু হওয়ায় থিবো কোর্তোয়া ছিটকে যাওয়ায় রিয়ালের পোস্টে ছিলেন আন্দ্রি লুনিন। গর্ডনের একটি প্রচেষ্টা পোস্টের কোণ থেকে ফিরিয়ে দেন এই ইউক্রেনীয় গোলরক্ষক। এর পরপরই এগিয়ে যায় সফরকারীরা। লা লিগায় মৌসুমে নিজের ১০ম গোলটি পান এমবাপে। বার্সা ডিফেন্ডার জেরার্ড মার্তিন একটি ক্রস ক্লিয়ার করতে গেলে বল এমবাপের গায়ে লেগে জালে জড়ায়।
পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরার সেরা সুযোগটি পেয়েছিলেন ইয়ামাল। তবে গোলরক্ষককে একা পেয়েও শট বক্সে রাখতে পারেননি এই বিস্ময় বালক। বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন ইয়াং দিওমান্দে, তবে তার শট লাগে সাইড নেটে।
দ্বিতীয় অর্ধে বদলে যায় খেলার গতি। জেরার্ড মার্তিন বক্সে দারুণভাবে আটকে দেন জুড বেলিংহ্যামকে। এরপর ৬১তম মিনিটে বার্সেলোনাকে সমতায় ফেরান রাফিনিয়া। পেদ্রির বাড়ানো বল ধরে বেলিংহ্যামের পায়ের মাঝখান দিয়ে শট নেন এই ব্রাজিলিয়ান। চলতি মৌসুমে নিজের ১৩তম গোলটি করলেও শটের গতি এত বেশি ছিল যে ঠেকানোর কোনো সুযোগ পাননি লুনিন।
সমতায় ফিরে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বার্সেলোনা। কর্নার থেকে মার্তিনের একটি শট দুর্দান্তভাবে আটকে দেন লুনিন। ইয়ামালের বাঁকানো শট আবার পোস্টের পাশ ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। আর ফ্রেংকি ডি ইয়ংয়ের একটি জোরালো শট দারুণভাবে ব্লক করেন ডিন হাইসেন।
বার্সেলোনা যখন দ্বিতীয় গোলের জন্য মরিয়া, তখনই তাদের স্তব্ধ করে দেয় রিয়াল। বদলি নামা গাব্রিয়েল জেসুস বল হারালে প্রতিআক্রমণে ওঠে সফরকারীরা। এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা কুবারসিকে কাটিয়ে বক্সে ফাঁকায় থাকা এমবাপেকে পাস দেন। আগুয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ফাঁকা পোস্টে বল পাঠাতে ভুল করেননি ফরাসি তারকা।