সর্বশেষ আপডেট:
স্টার অনলাইন ডেস্ক
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘পররাষ্ট্র দপ্তর ফ্লাভিও বলসোনারো ও তার পরিবারকে ভিসা দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেবে।’
বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হলেও ফ্লাভিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হার স্বীকার করেননি। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পাসপোর্ট জমা দিতেও অস্বীকৃতি জানান তিনি। অর্থ পাচারের একটি তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই নির্দেশে তার পাসপোর্ট জব্দের কথা বলা হয়েছিল। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফ্লাভিও।
ফ্লাভিও, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ফ্লাভিও ফ্লোরিডায় পৌঁছেছেন। তবে তিনি ঠিক কোথায় আছেন, তা জানা যায়নি।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র-ব্রাজিল সম্পর্কে টানাপোড়েন
ফ্লাভিওর দেশত্যাগে আমেরিকা মহাদেশের দুই সর্বাধিক জনবহুল দেশের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়তে পারে। লুলার অভিযোগ, বলসোনারো পরিবারকে আবার ক্ষমতায় আনতে ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করছে।
এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রোববারের নির্বাচনের আগে বলসোনারো পরিবারকে ক্ষমতায় ফেরাতে তৎপরতা চালাচ্ছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ফ্লাভিওর বাবা ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে দেশটির বিচারব্যবস্থার নিপীড়নের শিকার বলে দাবি করেছিলেন। ২০২২ সালে লুলার কাছে পরাজয়ের পর হার স্বীকার না করে জইরও যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। সে সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন জো বাইডেন।
পরে ব্রাজিলে ফিরে আসেন জইর। তবে তার সমর্থকেরা রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় সরকারি ভবনগুলোতে হামলা চালানোর পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে তাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ফ্লাভিওর দেশত্যাগ নিয়ে কিছু বলেননি ট্রাম্প। তবে ব্রাজিলের নির্বাচনকে ‘আরেকটি কারচুপির নির্বাচন বলে মনে হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ব্রাসিলিয়ায় লুলা বলেন, ফ্লাভিও দেশ ছেড়েছেন বলে তিনি মাত্রই শুনেছেন। ঘটনাটিকে লজ্জাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্লাভিওর ব্রাজিলে থেকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করা উচিত ছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববারের নির্বাচনে ফ্লাভিওকে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অপ্রত্যাশিত ফলাফলে লুলার কাছে পরাজিত হন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারণায় ফ্লাভিও বলসোনারো। ছবি: রয়টার্স
পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ
সোমবার ফ্লাভিওকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর তার পাসপোর্ট বাতিল করা হয় বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে দুটি সূত্র।
রয়টার্সের দেখা সুপ্রিম কোর্টের আদেশে বলা হয়েছে, ফ্লাভিওর দেশ ছেড়ে পালানোর আশঙ্কা এবং তার ‘উল্লেখযোগ্য আর্থিক সম্পদের’ কারণে পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে সিনেটে তার মেয়াদ শেষ হলে বিচার থেকে দায়মুক্তির সুযোগ হারাবেন ফ্লাভিও। তবে সোমবার তিনি দেশ ছেড়ে পালানোর পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, ‘দেশ ছাড়ার কথা আমি কখনো ভাবিনি। আমি পাসপোর্ট জমা দেব এবং এই প্রহসনের বিরুদ্ধে নিজেকে রক্ষা করব। এটি স্পষ্টতই আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা।’
ফ্লাভিওর দেশত্যাগের খবরে বিস্ময় প্রকাশ করেন তার নির্বাচনী প্রচারের ব্যবস্থাপক সিনেটর রজেরিও মারিনহো। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘খবরটি শুনে আমরা অবাক হয়েছি। কারণ, গতকালই আমরা আলোচনা করেছিলাম, ৬ কোটি ভোট পাওয়ার পর ফ্লাভিওর বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া উচিত।’
বাবার পথেই ফ্লাভিও?
রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার ভোটের অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফল বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছিলেন ফ্লাভিও। তবে তার দল লিবারেল পার্টি সোমবার লুলার বিজয় মেনে নেওয়ার কথা জানায়।
পাসপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা চলার মধ্যেই ফ্লাভিও কীভাবে দেশ ছাড়লেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নিয়মিত অভিবাসন কার্যক্রম পরিচালিত হয় এমন কোনো সীমান্তপথ দিয়ে তিনি দেশ ছাড়েননি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাভিওর ছোট ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। এ মাসে পডকাস্টার স্টিভেন ক্রাউডারকে এদুয়ার্দো বলেন, ‘আমার ভাই জয়ী না হলে আমি চাইব, সে দেশ ছেড়ে চলে যাক।’