কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানীর পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজের ১০ দিন পর স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাটুয়ারটেক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া রিসোর্টটির দ্বিতীয় তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মুক্তা ঢাকার সাভারের আশুলিয়া গ্রামের মোস্তফা কামালের মেয়ে। তিনি ঢাকার স্বপ্নবিলাস ইউনাইটেড স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি দেওয়ান ফয়সালের স্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর সকালে টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে আগুন লাগে। ওই দিন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরদিন ১৮ অক্টোবর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১১ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। খবর পেয়ে সেদিন বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্বিতীয় দফায় উদ্ধার অভিযান চালান। তবে রিসোর্টটি ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকায় অভিযান বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে মঙ্গলবার আবারও সেখানে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল বলেন, আগুনে তার স্ত্রীর শরীর পুড়ে কঙ্কাল হয়ে গেছে। তবে গলায় থাকা চেইন দেখে তিনি তাকে শনাক্ত করতে পেরেছেন। এবার মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরতে চান তিনি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, একজন নিখোঁজ ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর তার মুঠোফোনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সর্বশেষ অবস্থান ছিল পাটুয়ারটেক এলাকায়। পরে বুধবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের একটি দল পুড়ে যাওয়া রিসোর্টে গিয়ে দ্বিতীয় তলা থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, এ মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ ১১ জনের সবার সন্ধান পাওয়া গেছে। আগের ১০টি মরদেহ ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া উদ্ধার হওয়া মরদেহটি মুক্তার বলে তার স্বামী গলায় থাকা চেইন দেখে শনাক্ত করেছেন।
