দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৪০০। একই সময়ে নতুন করে দুই হাজার ৭১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি ও মৃত্যুর এই হিসাব পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জনে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ২১ হাজার ৪২২ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দুই হাজার ৭১ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ৮৯৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক ভর্তি রোগীর সংখ্যা হলো, খুলনায় ২৫০ জন, চট্টগ্রামে ২৪১ জন, রাজশাহীতে ২২৯ জন, বরিশালে ২১৭ জন, ময়মনসিংহে ৯৭ জন, রংপুরে ১১২ জন এবং সিলেটে ২৬ জন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সতর্কতা জরুরি
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করা জরুরি। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, ছাদের কোণা ও অন্যান্য স্থানে পানি জমে থাকলে তা পরিষ্কার করতে হবে, কারণ এসব স্থানে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে।
জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, বমি বা ডেঙ্গুর অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পেটে তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক দুর্বলতা কিংবা ঝিমুনি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
